এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা) ইস্যুতে তৃণমূল সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত এখন চরম পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই আবহেই সোমবার বিকেলে প্রতিবাদ স্বরূপ কালো পোশাক পরে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) দপ্তরে বৈঠক করতে গেলেন তিনি।
মমতার সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee), দোলা সেন এবং এসআইআর আতঙ্কে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। এদিন অভিষেক, কল্যাণ সহ সকলের পরনেও ছিল কালো পোশাক। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে প্রতীকি প্রতিবাদ হিসেবেই দেখা যায় আইনের বই।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দিল্লি পৌঁছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে করতে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে তিনজন মৃত বিএলও-র পরিবার এবং এসআইআর আতঙ্কে প্রাণ হারানো আটজনের পরিজনদেরও নিয়ে যান তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীতে তৃণমূলের সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মমতার। পাশাপাশি, দলের সাংসদদের নিয়ে বসবে চা-চক্র।
এরই মধ্যে সোমবার সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । আচমকাই চাণক্যপুরী ও হেইলি রোডের বঙ্গভবন ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ ওঠে, বঙ্গভবনের ঘরে ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালানো হয়েছে। খবর পেয়ে অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে তড়িঘড়ি নিজের বাসভবন থেকে বেরিয়ে বঙ্গভবনের সামনে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পুলিশের এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করেন তিনি। পাশাপাশি এসআইআর -এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পরিজনদের আশ্বস্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে এসআইআর নিয়ে একা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি।
পুরো ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তুলে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর রণংদেহী অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত বঙ্গভবন ছাড়তে বাধ্য হয় দিল্লি পুলিশ।





