Header AD

ইরান–আমেরিকার সম্পর্ক ক্রমে উত্তপ্ত হচ্ছে!মার্কিন সেনার হামলায় আঞ্চলিক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি খামেনেইয়ের

ইরানের আকাশে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনাচ্ছে। আমেরিকার সামরিক তৎপরতা ও কড়া হুঁশিয়ারির জেরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আবহে রবিবার কড়া বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই। ইরানের সরকারি টিভিতে দেওয়া বক্তব্যে খামেনেই বলেন, আমেরিকা যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে সেই যুদ্ধ শুধু দু’দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। গোটা মধ্যপ্রাচ্য আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।খামেনেই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরান কারও সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করতে চায় না। তবে ইরানের উপর হামলা হলে উপযুক্ত জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। তিনি বলেন, যুদ্ধ হলে তার ভয়াবহ পরিণতির দায় আমেরিকাকেই নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনও মিত্র দেশের ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে। এর আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—যে দেশের মাটি ব্যবহার করে হামলা হবে, সেই দেশকেও আক্রমণ করা হবে। এতে ধাপে ধাপে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কিছুদিন আগেই মনে করা হচ্ছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত রদ করায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা স্বাগত জানিয়েছিলেন। তখন যুদ্ধের আশঙ্কা কমেছিল। কিন্তু নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে পশ্চিম এশিয়ায় বিশাল নৌবহর পাঠিয়েছে আমেরিকা। তিনটি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সেনা ও যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে পাঁচদিনের সামরিক মহড়ার ঘোষণা করেছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী, মিত্র দেশ বা বাণিজ্যিক জাহাজে কোনও ক্ষতি হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

এর মধ্যেই পেন্টাগনে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সেনাকর্তাদের গোপন বৈঠক নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। বৈঠকে ছিলেন মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন ও ইজরায়েলের সেনাপ্রধান আয়ল জমির। পরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই সব বৈঠকের মূল বিষয় ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।