বাংলাকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে নিজেদের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রকল্পকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার! দেশে ব্যাপক হারে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার উদাহরণ তুলে ধরতে দেশজুড়ে জনধন অ্যাকাউন্ট খুলেছিল মোদি সরকার। বড়সড়ো আকারে তার ১০ বছর পূর্তিও পালন করা হয়েছিল। কিন্তু ১০ বছর কাটতে না কাটতেই বেরিয়ে এল তার কঙ্কালসার চেহারা অবস্থা। বাংলায় প্রায় ৯৫ লক্ষ জনধন অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেল। শুধুমাত্র কেন্দ্র সরকারের প্রকল্পের টাকা যেসব অ্যাকাউন্টে ঢুকত সেগুলিই সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে গোটা দেশে প্রায় ৫৫ কোটি জনধন অ্যাকাউন্ট খোলানো হয়েছিল । মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অধীনেই এইসব অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পের টাকা সাধারণ মানুষ পেতেন এই অ্যাকাউন্টে। গ্রামের প্রান্তিক মানুষ ‘১০০ দিনের কাজ’ প্রকল্পে খেটে যে টাকা রোজগার করতেন, তা সরাসরি পৌঁছে যেত ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে। কিন্তু বছরের পর বছর বাংলাকে এই খাতে কোনও টাকা দেয়নি কেন্দ্র। টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই আর এই অ্যাকাউন্ট চালু রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেননি।
চলতি আর্থিক বর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি জনধন যোজনার নিষ্ক্রীয় অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কেন্দ্রের চাপে এই বিপুল পরিমাণ বোঝা তারা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারছিল না। যদিও কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক বারবার আশ্বাস দিচ্ছিল এই অ্যাকাউন্টগুলি অকেজ হলেও বন্ধ হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একাউন্ট বন্ধ করার পথেই হাঁটলো সমস্ত ব্যাঙ্কগুলি। ব্যাঙ্ক কর্মীদের সর্বভারতীয় সংগঠন অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বলা হয়েছে, ‘এ রাজ্যে জনধন অ্যাকাউন্টগুলির একটা বড় অংশ বন্ধ হওয়ার কারণ ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা না আসা। বহু মানুষ ওই টাকা তুলতেই ব্যাঙ্কে যেতেন। যেখানে টাকাই নেই, সেখানে লেনদেনের উৎসাহ কীভাবে থাকবে? আমাদের দাবি, শুধু অ্যাকাউন্ট খুললেই হবে না। তাতে জনহিতকর কিছুই হয় না। সাধারণ মানুষ যাতে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে পরিষেবা পেতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।’





