গঙ্গাসাগর মেলা শুরুর আগেই বিপত্তি! শুক্রবার ভোরে কপিলমুনি আশ্রম চত্বরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে গেল একাধিক অস্থায়ী ছাউনি। সাগরমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরের দিনই এই দুর্ঘটনা ঘটল। শুক্রবার ভোর চারটে থেকে সাড়ে চারটে নাগাদ আশ্রম সংলগ্ন ২ নম্বর রোডের অস্থায়ী হোগলার ছাউনিগুলোতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের ছাউনিতে । ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, সংবাদমাধ্যম এবং বজরং পরিষদের একাধিক অস্থায়ী শিবির। তবে ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই। তবে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত পুণ্যার্থীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। পৌঁছন সাগরের বিডিও কানাইয়াকুমার রায়সহ প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা ও স্থানীয় বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা। এখন আগুন নিয়ন্ত্রণে। বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা বলেন, “শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দমকল থেকে প্রশাসনের আধিকারিকরা এসেছেন। কোনও হতাহতের খবর নেই।”
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন কপিলমুনির আশ্রম এলাকায় একটি হোগলা পাতার তৈরি ছাউনিতে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। ছাউনি শুকনো হোগলা পাতা দিয়ে তৈরি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন বিধ্বংসী রূপ নেয়। তারপরই দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য ছাউনিতে। গঙ্গাসাগর মেলায় প্রতি বছর যারা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকেন তাঁদের জন্য প্রতিবছরই এখানে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি হয়। এর মধ্যে পুলিশের ছাউনি রয়েছে, সংবাদমাধ্যমের ছাউনি, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের কর্মী ও আধিকারিকরা যেখানে থাকেন, সেই ছাউনি রয়েছে। এনজিওর কাজ করে যারা বজরং পরিষদ (যারা মূলত নিখোঁজদের খুঁজে দেয়) এবং খাবারের ব্যবস্থা করে এরকম বেশকিছু ক্যাম্প রয়েছে ২ নম্বর স্নানঘাট বরাবর। মূলত প্লাস্টিক, বাঁশ দিয়ে ছাউনিগুলি তৈরি হয়। সহজ দাহ্য হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভোরবেলায় হাওয়াতে তা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে বালতি করে জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি খবর দেওয়া হয় দমকলে। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে।
কী করে আগুন লাগল তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট বা রান্নার উনুন থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। আগুনের প্রকৃত উৎস কী, কতগুলি ছাউনি পুড়ে গিয়েছে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





