Header AD

রাজনৈতিক আলোচনা নয়, উন্নয়নের খতিয়ান দিতেই রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে হাজির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারের ১৫ বছরের কাজের খতিয়ান স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে উন্নয়নের পাঁচালি। সেই পাঁচালি জনদরবারে প্রচারের জন্য দলীয় নেতা-কর্মী- সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তবে শুধু দলীয় সতীর্থদের নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি। এবার নিজেও উন্নয়নের পাঁচালির প্রচারে পথে নেমেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বুধবার উন্নয়নের পাঁচালি পৌঁছে দিলেন অভিনেতা তথা কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ রঞ্জিত মল্লিকের কাছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “আমাদের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল কাজের বিস্তারিত খতিয়ান রঞ্জিতবাবুর হাতে তুলে দিয়েছি। কী অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে আমাদের কাজ করতে হয়েছে , বিশেষত ২০২১ সালে সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর সেই বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। তবে কোনও রাজনৈতিক কথা হয়নি।”

বুধবার বিকেলে পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান রঞ্জিত মল্লিকের গলফ ক্লাব রোডের বাড়িতে। সেখানে পৌঁছে তিনি বলেন, কথা দিয়েছিলাম সাড়ে চারটেয় আসব। তাই এসেছি। সাংসদ এদিন রঞ্জিত মল্লিকের স্ত্রী দীপা মল্লিককে প্রমাণ করেন। এরপর বাড়ির অভিনেতার বাড়িতে প্রবেশ করেন অভিষেক। সেখানেই অভিনেতার হাতে তুলে দেন রাজ্য সরকারের ১৫ বছরের কাজের খতিয়ান উন্নয়নের পাঁচালি। সেই সঙ্গে বর্ষীয়ান অভিনেতার হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রীর লেখা চিঠি। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বলেন, “দ্বিতীয়বার তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর কখনও হাইকোর্টের একাংশকে লাগিয়ে, অন্যদিকে একাধিক সিবিআই কেস, বাংলার ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা, এবং তারপরেও রাজ্যে একাধিক যুগান্তকারি প্রকল্পের কাজ হয়েছে। এইসব নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। ” পাশাপাশি ৩৪ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ” আগে সিপিএমের আমলে আপনারা দেখেছেন সরকারি কর্মচারিরা মাইনে পেতেন না। কোনও রকম কোনও আর্থিক বঞ্চনা ছাড়াও সিপিএম সেটা করতে পারেনি। আমরা এত কিছু করার পর রাজ্য সরকারের প্রতি কেন্দ্র যে বৈমাত্রেয় সুলভ আচরণ করছে সেই বিষয়ে রঞ্জিতবাবুর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।” এদিন বাংলা ছবিতে রঞ্জিত মল্লিকের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং প্রকাশ করেছেন রাজ্যের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। রাজ্যজুড়ে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে, পাড়ায় পাড়ায়, ব্লকে ব্লকে প্রচার চলছে এই পাঁচালির। সেই প্রচারেরই অঙ্গ হিসাবে রঞ্জিত মল্লিকের কাছে অভিষেক পৌঁছে দিলেন এই বই।