মহা অষ্টমীর পর নবমীর বৃষ্টি ভেজা বিকেলে কলকাতার একাধিক মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তাঁর সঙ্গে ছিল কন্যা আজানিয়া। ব্ল্যাক টি শার্ট আর ব্লু ডেনিমে একেবারে ক্যাজুয়াল ঢুকে ঘুরে বেড়ালেন শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ। এদিন প্রথমেই তিনি যান উত্তর কলকাতার চালতাবাগান সার্বজনীনের পুজো মণ্ডপে। কন্যা আজানিয়া ছাড়াও সেখানে সর্ব ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রেয়া পান্ডে।
চালতাবাগান সার্বজনীনের এবারের থিম আমি বাংলায় বলছি।। বাংলায় কথা বলার কারণে বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে বাঙালিরা যেভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন তারই প্রতিবাদে এখানকার মন্ডপে বাংলা ভাষায় গৌরবকে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে গিয়ে গোটা মণ্ডপ ঘুরে দেখেন অভিষেক।এদিন চালতাবাগানের পুজো মণ্ডপে গিয়েও অভিভূত তৃণমূল সাংসদ। বাংলা ভাষার বিবর্তন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বাংলা ভাষা আন্দোলনকে মণ্ডপ তৈরির ভাবনায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহজপাঠ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা বর্ণপরিচয়। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলা গানের অসীম গুরত্ব ছিল। সেই অংশকেও শিল্পী মণ্ডপ নির্মাণের ক্ষেত্রে তুলে ধরেছেন। মণ্ডপে রয়েছে বাংলার মণীষীদের ছবি। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ অন্যান্য মণীষীদের প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর তিনি যান দক্ষিণ কলকাতার যোধপুর পার্ক ৯৫ পল্লীর দুর্গাপুজো পরিদর্শনে। এবছর তাদের থিম হে বঙ্গ ভান্ডারে। নদীমাতৃক বঙ্গদেশ মনি মুক্তার খনি। সেই ভাবনাকেই এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানে গিয়েও পুরো মণ্ডপ ঘুরে দেখেন অভিষেক।সঙ্গে ছিলেন মেয়র পারিষদ দেবাশীষ কুমার। সেখানে মায়ের পায়ে ফুল নিবেদন করেন। এরপর মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে এসে শিশুদের সঙ্গে ছবি তোলেন। তাদের হাতে লজেন্স তুলে দেন সাংসদ। পাশাপাশি উপস্থিত দর্শনার্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন।
সবশেষে চলে যান দক্ষিণ কলকাতার ত্রিধারা সম্মিলনীর দুর্গোৎসব দেখতে। এবার তাদের থিম চলো ফিরি। শিকড়ে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানে। দেবাশীষ কুমারের তত্ত্বাবধানে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গোটা মন্ডপ ঘুরে দেখেন তিনি। এভাবেই নবমীর বিকেলে দুর্গাপুজোর আনন্দে শামিল হলেন অভিষেক।






