Header AD

দিল্লির পর মধ্যপ্রদেশ! স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী একাদশ শ্রেণির ছাত্রী

দিল্লির পর এবার মধ্যপ্রদেশ। একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী ক্লাসে মারধর, হেনস্তার অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী হল । ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায়। বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে  আত্মহত্যা করেছে সে। মৃত্যুর চার দিন পর তাঁর স্কুলের খাতার মধ্যে থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে একটি সুইসাইড নোট । শুক্রবার  প্রকাশ্যে এসেছে সে কথা। সূত্রের খবর, হেনস্তাকারী ওই স্কুলের শিক্ষকের নাম ওই ছাত্রী  লিখে গিয়েছে তাঁর খাতায়।

সূত্রের খবর, ১৭ বছরের ওই কিশোরী মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার একটি স্কুলে পড়ত। ১৬ নভেম্বর নিজের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বাড়িতে একেবারে স্বাভাবিক ছিল কিশোরী। এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তবে পরিবারের সদস্যেরা মনে করছেন স্কুলে তাঁর উপর অত্যাচার করা হতো। তাঁরা ছাত্রীর ফোনকলের রেকর্ড খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি স্কুলের সহপাঠীদের জিজ্ঞ্যাসাবাদ করেও সত্য উন্মোচন করা যেতে পারে বলে মত পরিবারের।

বৃহস্পতিবার তদন্তে নেমে ওই কিশোরীর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ।  কিশোরী তাতে লিখেছে, স্কুলের এক পুরুষ শিক্ষক তাকে মারধর করেছেন। এছাড়াও তার হাতের দুই আঙুলের ফাঁকে একটি পেন রেখে চাপ দিয়ে শাস্তি দিয়েছেন।  শাস্তির এই ধরনেই কিশোরী অপমানিত বোধ করেছিল বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা । এ বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য সহপাঠীদের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে মুখ খোলেনি এখনও।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দিল্লির এক নামী স্কুলের ১৬ বছরের পড়ুয়া  শৌর্য পাটিলের আত্মহত্যায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল। রাজেন্দ্র প্লেস মেট্রো স্টেশনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্র। ঠিক একইভাবে সেও সুইসাইড নোটে  স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিল। মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল সে। তদন্তকারীরা সে কথা জানতে পারেন ওই মৃত ছাত্রের সহপাঠীদের মাধ্যমে। ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক-সহ চার শিক্ষককে এই ঘটনায় সাসপেন্ড করেছেন কর্তৃপক্ষ। মধ্য প্রদেশের ঘটনাতেও সেই পথেই তদন্ত চালানোর পরিকল্পনা করছে পুলিশ।