Header AD

দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে সব অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, শুরু রাজনৈতিক তরজা

দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় সোমবার দুপুরে আরও একজঙ্কে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। রবিবার রাতে চতুর্থ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সবমিলিয়ে গত শুক্রবার এই ঘটনায় নির্যাতিতার দায়ের করা প্রাথমিক অভিযোগে যে কজনের নাম ছিল, সকলকেই গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের একজন দুর্গাপুর পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের অস্থায়ী কর্মী।

শুক্রবার রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ডাক্তারি ছাত্রী। গণধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ আগেই গ্রেফতার করেছিল তিন জনকে। রবিবার তাঁদের আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাঁদের ১০ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। গোটা ঘটনায় ‘নির্যাতিতা’র সহপাঠী-বন্ধুর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সেই সময় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহপাঠী-বন্ধুর বিরুদ্ধে। সেই বন্ধুটিকে ‘আটক’ করে রেখেছে পুলিশ। তাঁর বয়ানের সত্যাসত্য যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সদ্য ধৃত দুই অভিযুক্তকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে হাজির করিয়ে পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হবে। তা মঞ্জুর হলে সকলকেই একসঙ্গে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযুক্তদের ডিএনএ পরীক্ষা করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

সোমবারও এই ঘটনায় রীতিমতো সরগরম শিল্পনগরী। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। এ দিনই অভিযোগকারী তরুণীর বাবার সঙ্গে দেখা করেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা না বলা নিয়ে সরব হন তিনি। যদিও পশ্চিম বর্ধমান তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই অভিযোগ সামনে আসার পরে প্রথম দিন থেকেই রাজ্যের দুই মন্ত্রী মলয় ঘটক এবং প্রদীপ মজুমদার পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে দুর্গাপুরের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোনও অভিযুক্তকে রেয়াত করা হবে না। সেই অনুযায়ী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, মেয়ে এখনও শয্যাশায়ী। তিনি মেয়েকে আর বাংলায় রাখতে নারাজ।

এ নিয়ে বলতে গিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “জঘন্যতম অপরাধ। বিকৃতমনস্ক লোকের কাজ। এর সঙ্গে দল বা ধর্মের সম্পর্ক কী? ওড়িশার পর্যটক যখন ধর্ষিত হয়েছিলেন, তখন কি সব দায় বিজেপি কর্মীরা নিয়েছিলেন?” এই যে ওড়িশার মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান চলে এসছেন দুর্গাপুর, তিনি তখন কোথায় ছিলেন, প্রশ্ন তাঁর। মুখ্যমন্ত্রীর দুর্গাপুর না যাওয়া নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষের জবাবও দিয়েছেন কুণাল। শুভেন্দুসহ বিজেপি নেতাদের নিশানা করে তিনি বলেন, “ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় যাবেন তা কি ওঁর থেকে শিখতে হবে? উনি পুলিশকে যথাযথ নির্দেশ দিয়েছেন। একের পর এক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হচ্ছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন উত্তরবঙ্গে দুর্গতদের পাশেই রয়েছেন। তাই বলছি এসব সস্তা রাজনীতি করবেন না।“ নির্যাতিতার বাবার মেয়েকে আর এ রাজ্যে না রাখার কথা নিয়ে কুণালের ব্যাখ্যা, “ খুব দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। তরুণীর গোটা পরিবার মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। উনি কোন পরিস্থিতিতে কী বলেছেন সেটা না জেনে মন্তব্য করব না। আমাদের সরকার নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের পাশে আছে।“