আমি দিল্লিতে বহু দিন ধরে রাজনীতি করেছি। অনেক নির্বাচন কমিশন দেখেছি, কিন্তু জ্ঞানেশ কুমারের মতো কমিশন দেখিনি। বৈঠকে আমাদের কোনও কথাই শুনলেন না। আমাদের অপমান করেছেন, দুর্ব্যবহার করেছে্ন। জেনে বুঝে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। কমিশন বিজেপির দালাল হয়ে কাজ করছে। তাই আমরা বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছি। সোমবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে এভাবেই ক্ষোভ উগরে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি অপরিকল্পিত এসআইআর নিয়েও কমিশনকে নিশানা করলেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান।
এসআইআর-SIR (বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা) ইস্যুতে তৃণমূল সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত এখন চরম পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই আবহেই সোমবার বিকেলে প্রতিবাদ স্বরূপ কালো পোশাক পরে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) দপ্তরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল নিয়ে বৈঠক করতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee), দোলা সেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তিনজন মৃত বিএলও-র পরিবার এবং এসআইআর আতঙ্কে প্রাণ হারানো আটজনের পরিবারের সদস্যরাও।
বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে বেরিয়ে এসে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসআইআর নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে তোপ দাগেন। প্রশ্ন তোলেন কে এই সীমা খান্না? যিনি নির্বাচনের কমিশনের কর্মী নন, বিজেপির আইটি সেলের হয়ে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছেন। কমিশনকে ‘মিথ্যেবাদী, উদ্ধত’ বলে তোপ দাগেন তিনি। বলেন, “আমার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্যানার্জী লিখলে ডাকবে? মেয়েদের বিয়ের পর পদবি বদলে যায়। পদবি, বানান বিভ্রাটে অযথা হয়রানি। আগে কতজন হাসপাতালে জন্মাত? আমি এত বছর রাজনীতি করেছি, এমন কমিশন দেখিনি। এআই দিয়ে নাম বাদ দিচ্ছে। ৫৮ লাখ লোকের নাম কেটেছে। ভোটের ৩ মাস আগে এসআইআর করার কী প্রয়োজন ছিল? বেছে বেছে বাংলাকে টার্গেট করছে। অসমে এসআইআর হয়নি কেন? যদি এসআইআর করতেই হত ২০০২ সাল থেকে কেন করেননি?”
এরপরই তিনি বলেন, “অগণতান্ত্রিকভাবে এসআইআর করা হচ্ছে বাংলায়। আধার, রেশন, ভোটার কার্ড। কার্ডের মালা হয়ে গিয়েছে। লোকে ট্রাঙ্কে করে কাগজ নিয়ে যাচ্ছে!” বিজেপির নির্দেশে কমিশন কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, “এরা এমন শুরু করেছে আতঙ্কে বহু বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে। ভোটের আগেই সরকার গড়ে দেবে কমিশন? আপনাদের কাছে বিজেপির পাওয়ার রয়েছে, আমার কাছে মানুষের পাওয়ার।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে অপমান করা হয়েছে। বিচার তো পেলামই না। অবিচারের খেলা চলছে। ৬টা চিঠি দিলাম। একটারও জবাব পাইনি। আমরা লোকের হয়রানির কথা জানিয়েছি। আর কমিশন বলেছে যা করেছি বেশ করেছি।”মমতার অভিযোগ, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানছে না কমিশন। অমর্ত্য সেনদের বিনা কারণে ডাকছে কমিশন।সিইসিকে বয়কট করলাম। নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে এদিন তিনি বলেন, ‘আপনার অবস্থাও ধনখড়ের মতো হবে। বিজেপির ভয়ে কাজ করছেন। বিহার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রে প্রভাবিত করে জিতে গিয়েছে। কিন্তু বাংলা হবে না।’





