পূর্ব বর্ধমানে সাপুড়েদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠল । এর প্রতিবাদে প্রায় ৯০ জন সাপুড়ে শুক্রবার রমনার বাগানে বন দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, কয়েকদিন আগে এক জনের বাড়িতে সাপ উদ্ধার করায় বন দফতরের কর্মীরা অকথ্য ভাষায় তাঁদের গালিগালাজ ও বেধড়ক মারধর করেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের থেকে লিখিত অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়।
পূর্ব বর্ধমানের নিমো মালোপাড়ায় প্রায় ১৫০টি সাপুড়ে পরিবারের বাস। বংশপরম্পরায় সাপ খেলা দেখিয়েই তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করলেও, বন্যপ্রাণী আইনের কারণে অধিকাংশই এখন কর্মহীন। কেউবা আবার সাপ উদ্ধারের কাজ করেও কোনও ভাবে সংসার চালান।
ঘটনা প্রসঙ্গে দুই সাপুড়ের অভিযোগ, ‘দিনকয়েক আগে দেওয়ানদিঘির এক ব্যক্তির বাড়িতে সাপ দেখা দেয়। খবর দেওয়া হয় প্রথমে বন দপ্তরের কর্মীদের। তাঁরা সেখানে পৌঁছতে দেরি করায়, আমরাই সাপটিকে উদ্ধার করি । কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরে বন দপ্তরের নিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি এসে আমাদেরকেই গালিগালাজ এবং বেধড়ক মারধর করেন’। এ প্রসঙ্গে বন দফতরের রেঞ্জ অফিসার জানিয়েছেন, “ওঁরা লিখিত অভিযোগ দেবেন বলেছেন। অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে দেখা হবে।”
সাপুড়েদের অভিযোগ, বর্ধমান থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ করতে গেলেও পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে অভিযোগ নেয়নি। এরপর বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ সুপার দপ্তরে গিয়ে তাঁরা লিখিতভাবে অভিযোগ জানান।
অভিযুক্ত দপ্তরকর্মীদের শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে শুক্রবার বন বিভাগের অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান সাপুড়েরা। তাঁদের কথায়, “আইন মেনে আমরা আর সাপ খেলা দেখাই না। সাপ উদ্ধার করে মানুষের উপকার করি। তবুও যদি এমন নির্যাতন করা হয়, তা হলে আমরা কোথায় যাব?”





