মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আমেরিকার পারমাণবিক শক্তি। ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতের মাঝেই পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল মিনিটম্যান-৩–এর পরীক্ষা চালিয়েছে আমেরিকা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি শুধুই নিয়মিত সামরিক পরীক্ষা, নাকি ইরানকে উদ্দেশ্য করে পরোক্ষ সতর্কবার্তা?
মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ সেনা ঘাঁটি থেকে মঙ্গলবার রাতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি হাজার মাইল দূরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সফলভাবে আঘাত হানে। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড জানিয়েছে, এটি ছিল সম্পূর্ণ রুটিন পরীক্ষা এবং চলমান ইরান সংঘাতের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
উল্লেক্ষ্য, মিনিটম্যান-৩ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM)। এর পাল্লা প্রায় ৬ হাজার মাইল এবং গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫ হাজার মাইলেরও বেশি। এই মিসাইল এমন পারমাণবিক বোমা বহন করতে পারে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত ‘লিটল বয়’ বোমার তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর পর থেকেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইজরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি হয়তো কেবল নিয়মিত সামরিক মহড়া হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে শক্তি প্রদর্শনের বার্তা। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই পরীক্ষা কি নিছক রুটিন- মাফিক, নাকি ইরানকে উদ্দেশ্য করে এক ধরনের কৌশলগত সতর্কতা?





