Header AD

তর্পণে ‘ঘিলুখেকো’ অ্যামিবার আতঙ্ক! ডুব দিলেই কি আক্রান্ত হবেন?

রবিবার মহালয়া ।  গঙ্গার ঘাটে ঘাটে তর্পণের মাধ্যমে পিতৃপুরুষকে জলদান করাই রীতি । তবে প্রথা মেনে তর্পণ করা নিয়ে এবার চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কারণ ‘নিগ্লেরিয়া ফোলেরি’ নামক অ্যামিবা। যার আক্রমণে কেরলে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ১৯ জনের মৃত্যু  ঘটেছে ইতিমধ্যে ।  অপরিষ্কার জমা জলেই  জন্ম নিচ্ছে এই ঘিলুখেকো অ্যামিবা । এবার সেই অ্যামিবা আতঙ্কই চোখ রাঙাচ্ছে  শহরবাসীকে।

তবে এখনই আতঙ্কের কিছু দেখছেন না বাংলার চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নদীর জলে এই অ্যামিবা জন্মায় না। যে জলে স্রোত রয়েছে সেখানে এই অ্যামিবা দেখা যায় না। ফলে যারা নদীতে তর্পণ করবেন তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে পাড়ার নোংরা পুকুরে না নামাই শ্রেয়, বলছেন চিকিৎসকরা। শুধু তাই নয়, বদ্ধ, অপরিষ্কার ও দূষিত জলাশয়কে ব্লিচিং পাউডার ও পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আর এভাবেই এই সংক্রমণ এড়ানো যাবে বলে মত চিকিৎসকদের।

প্রসঙ্গত, ঘিলুখেকো অ্যামিবার থাবায় বাংলায় গত দু’বছরে ২৫ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, কেরলের  ঘিলুখেকো অ্যামিবার সঙ্গে বাংলার পুকুরে মেলা অ্যামিবার পার্থক্য আছে। বাংলায় আক্রান্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশ রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুকুর ডোবার মতো বদ্ধ জলাশয়ে এই অ্যামিবার সন্ধান মেলে। তাই এই সব জায়গায় স্নানের ক্ষেত্রে সতর্ক হতেই হবে। কারণ, একবার এই প্রোটোজোয়া সেরিব্রো স্পাইনাল ফ্লুইডে চলে গেলে মগজ ধ্বংস শুরু হবে। সেক্ষেত্রে যে অংশের মগজ খাবে এই অ্যামিবা সেই অংশ শরীরের যে জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে সেখানেই অস্বাভাবিকতা দেখা দেবে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে শরীর। চিনতে না পারা, বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যাওয়া, খিঁচুনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই রোগ নিয়ে নিশ্চিত হতে গেলে লাম্বার পাঞ্চার করে সিএসএফ নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। তারপর ওষুধ খেলে সুস্থ হওয়া যাবে। অতএব আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শই দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।