তেলঙ্গানায় পথকুকুর নিধন ঘিরে চাঞ্চল্য থামছেই না। কয়েক দিন আগেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ৫০০-রও বেশি পথকুকুরকে খুনের অভিযোগ সামনে আসার পর, এ বার ফের শ’খানেক পথকুকুরকে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল। এবার ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের কাছে। ঘটনাটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, হায়দরাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে রঙ্গারেড্ডি জেলার ইয়াচারাম গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, এক রাতের মধ্যেই প্রায় ১০০টিরও বেশি পথকুকুরকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। পশুপ্রেমী ও পশু অধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই কাজের জন্য পেশাদার লোক নিয়োগ করা হয়েছিল। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, গ্রামের প্রধান ও তাঁর সহযোগীদের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। যদিও এখনও সব কুকুরের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে একসঙ্গে বহু পথকুকুরকে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। পরে রাতের অন্ধকারে গ্রাম থেকে দূরে তাদের দেহ ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে হঠাৎ করেই বহু কুকুর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে গ্রামবাসীদের। এরপরই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ইয়াচারাম থানার স্টেশন হাউস অফিসার জানিয়েছেন, “আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছি। কুকুরগুলির দেহ কোথাও মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও তেলঙ্গানার তিনটি জেলায় ৫০০-রও বেশি পথকুকুর হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ছিল, পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ের পর কিছু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নির্বাচনী ‘প্রতিশ্রুতি’ পূরণ করতেই পরিকল্পিত ভাবে পথকুকুর নিধনে নেমেছেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও নতুন করে পথকুকুর হত্যার অভিযোগ সামনে এল, যা রাজ্যজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।





