আবারও বঙ্গে SIR আতঙ্কে মৃত্যু! গায়ে আগুন দিয়ে ‘আত্মঘাতী’ হলেন এক মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ভূমশোর গ্রামে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। মৃতার নাম মুস্তরা খাতুন কাজি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি সাংসদ সায়নী ঘোষকে শনিবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে, সাংসদ সায়নী ঘোষ মৃত ব্যক্তির বাড়িতে যাবেন বলে খবর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মাঝবয়সী ওই মহিলা অবিবাহিত ছিলেন। বাড়ির সদস্যদের সঙ্গেই তিনি থাকতেন। শুক্রবার রাতে তিনি নিজের গায়ে আগুন দেন বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যরা রাতেই বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে উদ্ধার করে ভাতার ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় ভাতার থানায়। পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
সূত্রের খবর, মুস্তরা খাতুন কাজির বাবা-মা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। তাঁরা তিন বোন ও এক ভাই। অন্যান্য ভাই বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও মুস্তরা খাতুন কাজি অবিবাহিত ছিলেন। দাদা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কর্মরত। SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই মহিলা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন বলে খবর। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁর আতঙ্ক কমছিল না। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার SIR ফর্মও জমা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর শুক্রবার রাতে সকলের অলক্ষ্যে তিনি গায়ে আগুন দেন।
ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্যর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন অপরিকল্পিতভাবে SIR করার জন্য এমন ঘটনা ঘটল। এলাকার বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী শনিবার মৃতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।





