এসআইআর আতঙ্কে ফের একাধিক মৃত্যুর অভিযোগ রাজ্যে। এবার প্রাণ গেল পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের বাসিন্দা এক বৃদ্ধা ও মুর্শিদাবাদের এক ব্যাক্তির। দুই পরিবারের অভিযোগ, দেশছাড়া হওয়ার আতঙ্ক জাঁকিয়ে বসেছিল তাঁদের মনে। সেই আতঙ্কেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার।
জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার ভোগপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা কেশিমন বিবি। বয়স ৮৩ বছর। স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম ছিল না কেশিমন বিবি ও তাঁর ছেলের। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বৃদ্ধা। এত বছরের ভিটেমাটি ছাড়তে হবে, এই আশঙ্কায় অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। এরই মাঝে বৃহস্পতিবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন কেশিমন বিবি। বাড়িতেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার।
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদেও এদিন এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এক্ষেত্রেও অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কেই মৃত্যু। মৃতের নাম এরফান খান। তিনি মুর্শিদাবাদের বাহাদুরপুরের বাসিন্দা। ভোটার লিস্টে নামের বানান ভুল থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। ২০০২ ও ২০২৫ ভোটার লিস্টে দু’রকম নামের বানান ছিল তাঁর। সেই থেকেই মনে ভয় ঢোকে তাঁর। যার পরিণতি হল মর্মান্তিক। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
আবার কোচবিহারের মাথাভাঙায় এসআইআরের কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক বিএলও। বাইক ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মৃত্যু হল শিক্ষকের। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বিএলওর নাম ললিত অধিকারী। বয়স ৫৩ বছর। তিনি বড়ধাম চাত্রা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ললিতবাবু বড়ধাম চাঁচড়া গ্রামের ১২৮ নম্বর বুথের বিএলও হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। সেই কাজেই বৃহস্পতিবার বেরিয়েছিলেন। কাজ সেরে বাড়িতে ফেরার সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মাথাভাঙা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ললিতবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কোচবিহারের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলায় এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই জনমানসে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আমজনতার মনে হাজার প্রশ্ন-ভয়। তারই পরিণতি হচ্ছে মর্মান্তিক।





