রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে SIR বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ।এই নিয়ে বুথ স্তরের আধিকারিক বা বিএলও দের মধ্যে কাজের চাপে মানসিক উদ্বেগ, আতঙ্ক থেকে শুরু করে নানা রকমের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এরই মাঝে কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে রাত জেগে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ করতে করতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক বিএলওর । ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম জেলায়। পরিবারের অভিযোগ, প্রত্যেকদিনই রাত জেগে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ করতেন। সার্ভারে আপলোড করতেন সমস্ত তথ্য। রাত জেগে জেগে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আর সেই কারণেই এই ঘটনা। এই ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, মৃত বিএলওর নাম জাকির হোসেন। পেশায় তিনি ছিলেন দিঘা (প্রাইমারি স্কুল) শিক্ষক। বৃহস্পতিবার রাতে কাজ করার সময়ে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন জাকির হোসেন। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি । হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় জাকির হোসেনের। এই ঘটনায় শোকের ছায়া পরিবারে। বুথ নম্বর ১৪ এর বিএলও হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন জাকির হোসেন। পরিবারের এক সদস্য জানান, ”প্রত্যেকদিন সকালে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ করতে বের হতেন। আবার গভীর রাত পর্যন্ত সেই সময় ফর্ম সার্ভারে আপলোড করতেন। যা নিয়ে মানসিক চাপ বাড়ছিল।“ এছাড়াও তাঁর জন্যে যে এই কাজ নয়, তাও স্থানীয়দের কাছে জানিয়েছিলেন বলে দাবি ওই সদস্যের।
দিনের পর দিন জটিলতা বাড়ছে এসআইআর এর কাজ নিয়ে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষের জন্য কার্যত চাপ দেওয়া হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। অথচ পরিকাঠামোয় রয়েছে হাজারও ত্রুটি। বিশেষ করে সার্ভারে আপলোড করতে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিএলওদের। বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায় লিঙ্ক নেই! ফলে খুব দ্রুত কাজ করতে মুশকিলে পড়ছেন বিএলওরা। আর এই পাহাড়সমান চাপের কাছে হার মেনে কোনও কোনও বিএলও নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার পথে হেঁটেছেন। সুইসাইড নোটে তাঁরা লিখেছেন সেই কারণও। এছাড়াও, একাধিক বিএলও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যা নিয়ে নির্বাচন কমিশকে বারংবার বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।





