আবারও ভূমিকম্পের শিকার ইন্দোনেশিয়া। ২ সপ্তাহের ব্যবধানে ফের জোরাল কম্পন অনুভূত হল দ্বীপরাষ্ট্রের বান্দা সাগরে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৬। তবে ভূমিকম্পের জেরে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। কম্পনের জেরে শুরুতে সুনামির আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই আশঙ্কা খারিজ করা হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক গবেষণাকেন্দ্র ‘জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস’ (জিএফজেড) সূত্রে খবর, এদিনের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বান্দা এলাকার সমুদ্রতল থেকে ১৩৭ কিলোমিটার (৮৫ মাইল) গভীরে। ভূ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের দিক থেকে অত্যন্ত সক্রিয় প্রশান্ত মহাসাগরের “রিং অফ ফায়ার” এর পাশে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া। এর জটিল টেকটোনিক বিন্যাসের কারণে প্রায়শই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে এখানে। বিশেষ করে বান্দা সাগর অঞ্চলটি অস্ট্রেলিয়ান এবং সুন্দা প্লেট সহ একাধিক টেকটোনিক প্লেটের কেন্দ্রস্থল। এই মিথস্ক্রিয়া পৃথিবীর ভূ-তলকে ছোট ছোট প্লেট এবং মাইক্রোপ্লেটে বিভক্ত করেছে। যেমন বান্দা সাগর, তিমুর, মোলুক্কা সাগর এবং বার্ডস হেড প্লেট – যা পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল ভূতাত্ত্বিক পরিবেশগুলির মধ্যে একটি।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশে ভূমিকম্প হয়েছিল। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আবেপুরা শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের এক জায়গা, যেখানকার জনসংখ্যা ৬২ হাজারের বেশি। ৬.৭ মাত্রার ওই ভূকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭০ কিলোমিটার (৪৩.৫ মাইল) গভীরে। ওই ঘটনায় প্রাণহানি না হলেও ক্ষতি হয়েছিল কিছু বাড়িঘরের।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। এর কেন্দ্রস্থল ছিল বান্দা আচের অদূরে। সেই ভূমিকম্পের জেরে তীব্র জলোচ্ছ্বাস সুনামি রূপ নিয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়।





