ফের সাতসকালে অ্যাকশন মোডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। মঙ্গলবার সকালে রাজ্যের একাধিক জেলায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। কয়লা পাচার মামলায় কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল, বর্ধমান, দিল্লি সহ ৯ জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তাদের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। জানা যাচ্ছে, বুদবুদ থানার আধিকারিক মনোরঞ্জন মন্ডলের বাড়িতেও এদিন সকালে হানা দেয় ইডি। সূত্রের খবর, বালি ও কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্ত করতেই এই অভিযান শুরু করেছেন তাঁরা। প্রায় ২৫-৩০ জন ইডি আধিকারিক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এই অভিযান চালাচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালে আসানসোলের জামুরিয়ায় পৌঁছয় ইডি আধিকারিকদের একটি দল। অপর একটি দল পৌঁছয় বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত ওসি মনোরঞ্জন মন্ডলের সিটি সেন্টারের বেঙ্গল অম্বুজার বাড়িতে। এছাড়াও দুর্গাপুরে পানাগড়ে একটি বেসরকারী সংস্থার অফিস ও পান্ডবেশ্বরের নবগ্রামে শেখ মাইজুল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে শুরু হয় তল্লাশি। এদিন ইডি আধিকারিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তাবাহিনীও। তার আগেই একাধিক জেলা জুড়ে ইডির অল আউট অ্যাকশন ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যজুড়ে।
বছর খানেক আগে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে আসানসোলের বারাবনি থানা থেকে সাসপেন্ড করা হয় মনোরঞ্জন মণ্ডলকে। এতদিন আসানসোল পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে ছিলেন তিনি। সদ্য তাঁকে বুদবুদ থানার ওসি পদে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু থানার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ইডির এই অভিযানে নতুন করে উঠল প্রশ্ন। শুধু মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেই নয় একই সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলার একাধিক প্রান্তে কয়লা ও বালি ব্যবসায়ীদের বাড়িতেও হানা দেয় ইডি।
অন্যদিকে দুর্গাপুরের বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের ভাইয়ের বাড়িতেও ইডির একটি দল পৌঁছে গিয়েছে বলে খবর। একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে আর্থিক লেনদেন এবং নথিপত্র খতিয়েও দেখছে। এছাড়া আসানসোলের জামুরিয়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলা এলাকার সাবান ফ্যাক্টরি গলিতে রাজেশ বানসালের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। জানা যাচ্ছে, রাজেশ বানসাল ওই এলাকায় হার্ডওয়্যার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। রানীগঞ্জ এলাকাতেও তাঁর হার্ডওয়্যারের ব্যবসা রয়েছে। ইডির প্রাথমিক অনুমান, খনি অঞ্চলের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে তিনি পূর্বে যুক্ত ছিলেন। আর সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতেই আজকের এই তল্লাশি।
কয়লা পাচার মামলায় এর আগেও অনেকবার ইডির তৎপরতা নজরে এসেছে। সম্প্রতি আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি চালানোর পর এবার রাজ্যের একাধিক জায়গায় এই অভিযান ঘিরে নতুন করে আবার চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।





