Header AD
Trending

ডলারের দিন কি শেষ? বিশ্ব মুদ্রা হিসেবে ইউয়ানকে এগিয়ে আনতে শি জিনপিংয়ের বার্তা, বাড়ছে আমেরিকার অস্বস্তি

বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের দীর্ঘদিনের আধিপত্য কি এবার চ্যালেঞ্জের মুখে? এমনই জল্পনা উসকে দিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য—আগামী দিনে ডলারের (Dollar) পরিবর্তে চিনা মুদ্রা ইউয়ানই (Chinese currency Yuwan) হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের প্রধান বা ‘গ্লোবাল রিজার্ভ’ মুদ্রা। শি জিনপিংয়ের এই মন্তব্য সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, চিনের এই দাবিতে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হবে আমেরিকা, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ও তাঁর সমর্থক মহল।

চিনের কমিউনিস্ট পার্টির তাত্ত্বিক জার্নাল ‘কিউশি’-তে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভাষণে শি জিনপিং বলেন, “একটি দেশকে প্রকৃত অর্থনৈতিক মহাশক্তি হতে হলে এমন একটি মুদ্রা দরকার, যার উপর গোটা বিশ্ব আস্থা রাখবে এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহার করবে। চিন সেই লক্ষ্যেই একটি শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য মুদ্রা গড়ে তুলতে চাইছে।” তাঁর দাবি, ইউয়ানকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

উল্লেখ্য বিষয় হল, এই ভাষণটি শি জিনপিং দিয়েছিলেন ২০২৪ সালে। তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে তা প্রকাশ পাওয়ায় বিশেষ তাৎপর্য দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত বিশ্বে বহু দেশই মার্কিন নীতির কারণে চাপের মুখে। অনেকের অভিযোগ, আমেরিকা ডলারকে কার্যত ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে নিজের প্রভাব বজায় রাখছে।

এই প্রেক্ষাপটে ডলারের বিকল্প খোঁজার উদ্যোগ হিসেবে উঠে এসেছে ব্রিকস মুদ্রা-র (Brics Currency) ধারণা। ভারত, চিন, রাশিয়া-সহ ব্রিকস জোটের এমন পরিকল্পনায় স্পষ্টতই অস্বস্তিতে আমেরিকা। এমনকি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে—ব্রিকস যদি নিজস্ব মুদ্রা চালু করে, তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হতে পারে। যদিও ব্রিকস দেশগুলি প্রকাশ্যে খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে শোনা যাচ্ছে ডলারের বিকল্প হিসেবে একটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর দিকেও নজর দিচ্ছে তারা। এই আবহেই ইউয়ানকে বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার শি জিনপিংয়ের মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।

সব মিলিয়ে, ডলারের ভবিষ্যৎ ও বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে যাবে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্বমঞ্চে।