Header AD

ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অরূপ বিশ্বাসকে অব্যহতি! তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই দপ্তর

যুবভারতী কাণ্ডের জের! ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অরূপ বিশ্বাসকে অব্যহতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিলেন আরূপ। সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার থেকে তিনি নিজেই এই দায়িত্ব সামলাবেন। মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস লিখেছেন, ‘নিরপেক্ষ তদন্তের মর্মে আমি ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে আপনার কাছে অব্যাহতি চাইছি।’ ওই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, গত ১৩ ডিসেম্বর লিওনেল মেসির যুবভারতীতে আগমনে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি তৈরি করেছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত চান বলেই তিনি অব্যাহতি চাইছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই থাকবে ক্রীড়া দপ্তর। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষের মন্তব্য, ‘নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে রাজধর্ম পালন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।‘ অতীতে বাম জমানায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে পূর্বতন সরকারকে নিশানা করতেও ছাড়েননি তিনি।  

 উল্লেখ্য, শনিবার ১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঢোকেন লিওনেল মেসি। সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রড্রিগো ডি পল। ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে উচ্ছ্বসিত দেখায় মেসিকে। তবে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু মানুষ ঘিরে ধরেন তাঁকে। ফলে গ্যালারি থেকে শুধু মেসি নয়, সুয়ারেজ় এবং ডি’পলকেও দেখা যায়নি। হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও স্বপ্নের তারকাদের দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আর্জেন্টাইন মহাতারকা মাঠ ছাড়তেই গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া হয়, ভেঙে ফেলা হয় ব্যানার। তারপর ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে রীতিমতো তাণ্ডব চালায় উন্মত্ত জনতা। মেসির সঙ্গে যুবভারতীতে সেদিন ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অব্যবস্থার অভিযোগে সেদিনই দমদম বিমান বন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। পরে তাঁর ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে।

যুবভারতীতে এই লজ্জাজনক ঘটনার পরই মেসি ও দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে সেই কমিটি অতি তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে প্রাতমিক রিপোর্ট দিয়েছে। যুবভারতীতে ভাঙচুরের ঘটনায় সেই তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে একগুচ্ছ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেছে রাজ্য। তদন্ত কমিটির সুপারিশ মেনে সিট গঠন করা হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে। সেই সঙ্গে শোকজ করা হয়েছে বিধাননগরের কমিশনার মুকেশ কুমার, যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকে। সাসপেন্ড করা হয়েছে বিধানগরের ডিসি অনীশ সরকারকে। বরখাস্ত করা হয়েছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সিইও দেবকুমার নন্দনকেও।