খারাপ আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতা কম থাকায় নদিয়ার তাহেরপুরে তৈরি অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামতে পারল না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Prime Minister Narendra Modi) হেলিকপ্টার ৷ ফলে নির্ধারিত সময়ে তাহেরপুরে পৌঁছেও কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয় প্রধানমন্ত্রীর কপ্টারকে। এরপর বিমানবন্দর থেকেই এদিনের সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখলেন। মতুয়াদের মন জয়ে বড়মা আবেগে শান দিতে তাঁর মুখ্য শোনা গেল জয় নিতাই। কিন্তু এদিনের সভা থেকে মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে কোনও সদত্তর না দিয়ে কার্যত মৌন রইলেন। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
মতুয়াগড় তাহেরপুরে শনিবার জোড়া কর্মসূচি ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সরকারি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজনৈতিক সভা করার কথাও ছিল। এসআইআরে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় একাধিক মতুয়ার নাম বাদ পড়েছ। নতুন করে উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন সেখানকার মানুষরা। এই অবস্থায় এদিনে প্রধানমন্ত্রীর সভা রাজনৈতিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু ঘন কুয়াশাজনিত কারণে এদিন সভায় সশরীরে পৌঁছতেই পারলেন না প্রধানমন্ত্রী। ফলে সভা শুরুর আগেই আশাভঙ্গ হল উপস্থিত শ্রোতাদের। এদিকে সভা শুরুর আগেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সভাস্থলে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু করেন কর্মী সমর্থকদের একাংশ। গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন কর্মী সমর্থকরা। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন বিজেপি নেত্রীবৃন্দ।
এরপরই বিমানবন্দর থেকে ভার্চুয়ালি ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। SIR আবহে এদিন হাজার হাজার মতুয়া আশায় ছিলেন, নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও বড় ঘোষণা করতে পারেন মোদি। কিন্তু তাহেরপুরে দেওয়া ভার্চুয়াল ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সে পথে হাঁটলেন না! বরং অনুপ্রবেশকারীদের আক্রমণ করে SIR-এর সমর্থনে যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করলেন। শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন। তিনি বললেন, “তৃণমূল যে SIR বিরোধিতা করছে, সবটাই শুধু অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে।” বক্তৃতায় তিনি বাঙালি আবেগে শান দিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর রচিত বন্দেমাতরমের ভূয়সী প্রশংসা করলেও মূল বিষয় নাগরিকত্ব ইস্যুকে এড়িয়ে গেলেন। মোদির এহেন বক্তব্যে একেবারেই হতাশ সভায় আসা মতুয়ারা। এবার সেই নিয়ে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এসআইআর নামক বিজেপি প্রভাবিত নির্বাচন কমিশনের হঠকারিতায় যারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন, তাঁদের জন্য বার্তা দিতে পারতেন। কিন্তু তাঁর কাছে কোনও বার্তা নেই। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ একেবারেই দিশাহীন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।”




