Header AD

দীর্ঘ রোগ ভোগের পর প্রয়াত বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

দীর্ঘদিন ধরেই নানা রোগে জর্জরিত ছিলেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গত কয়েকদিন যাবত তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি নার্সিংহোমের সিসিইউতে তার চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার সকাল ছটা নাগাদ ভোরের নামাজ পড়ার শেষেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে বিএনপি’র তরফে জানানো হয়েছে। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার প্রতিষ্ঠা পাওয়া যেমন মুজিবুর কন্যা হওয়ার দৌলতে, তেমনি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হওয়ার সুবিধা পেয়েছেন খালেদা। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি নিজেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বি এন পি)র হাল ধরেন। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।

দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুদফায় দায়িত্ব সামলেছেন খালেদা। প্রথমবার ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ ও দ্বিতীয়বার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। নারী শিক্ষার প্রসারে খালেদা সরকারের অবদানের কথা অনেকেই বলেন। কিন্তু তার আমলে দুর্নীতিও কিছু কম হয়নি। ২০১৮টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদার।

প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কিডনির সমস্যা বেশ পুরনো। নভেম্বর মাসে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ফুসফুসে সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। বয়স জনিত কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে। তাঁর শরীরে আগে থেকেই একাধিক রোগ থাকায় সমস্যা দ্বিগুণ হয়। ভক্তি রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে অন্যটির উপর প্রভাব পড়তে শুরু করে। সোমবারই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় ভেন্টিলেশনে দিতে হয় তাঁকে। সোমবার রাতে মাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন খালেদা পত্র তারেক। চলতি বছরের গোড়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদাকে লন্ডন উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এবারেও তেমনি পরিকল্পনা ছিল তাঁর পরিবারের। কিন্তু বিএনপি নেত্রী শারীরিক পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় সেই ঝুঁকি নেওয়া যায়নি।

খালেদার শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে খালেদার পরিবার ও বাংলাদেশের মানুষকে সমবেদনা জানিয়ে। মোদি লিখেছেন , “ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ” বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কথা অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি শোকাহত। তাঁর শোকার্ত পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও দলীয় কর্মীদের সমবেদনা জানাচ্ছি।

রাজনৈতিক শত্রুতা ভুলে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। খালেদার পুত্র তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন আওয়ামী লিগ নেত্রী। শোকবার্তায় তিনি লিখেছেন, ” বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান অপরিসীম। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি এবং বিএনপি নেতৃত্বের অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”
শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসও। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে ইউনুসকে উদ্ধৃত করে দীর্ঘ পোস্টে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। আবার ওই পোস্টেই বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খোঁচা দেওয়া হয়েছে। খালেদার সঙ্গে পুরাতন বিএনপি নেত্রীর তুলনা করে ইউনূসের বয়ানে লেখা হয়েছে, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনকালে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের প্রতীক।