ফের বিজেপি শাসিত রাজ্যে ওড়িশায় কাজে গিয়ে খুন হল বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃত শ্রমিকের নাম জুয়েল রানা। গুরুতর জখম তাঁর সহকর্মী। সেদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা এখনও যেন তাঁর মনে কাঁটার মতো বিঁধছে। হাসপাতালের বেডে শুয়েই সেদিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন সহকর্মী মাজার খান। জুয়েল মুর্শিদাবাদ জেলার সুতির চক বাহাদুরপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের লোকজনের। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
হাসপাতালের বেডে শুয়েই সহকর্মী মাজার খান জানিয়েছেন , “কিছু লোক আমাদের কাছে এল। বিড়ি চাইল প্রথমে। তারপরই আধার কার্ড দেখতে চাইল। নিমেষে জুয়েলের দিকে এগিয়ে এল। ভারী বস্তু দিয়ে চোখের সামনে মাথা থেঁতলে খুন করল ওরা।” জুয়েলের আরেক সহকর্মী নিজামুদ্দিন খান দাবি করেন, বাংলাদেশি ভেবে তাঁদের হেনস্তা করা হয় । নির্মম অত্যাচার করা হয়। তার ফলেই মৃত্যু হয়েছে জুয়েলের। মাজার এবং নিজামুদ্দিন দুজনেই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। সেই সঙ্গে শারীরিক যন্ত্রণা তো আছেই।
জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের সুতি ১ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা জুয়েল ওড়িশার সম্বলপুরে কাজের জন্যে গিয়েছিলেন । তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুতি এলাকার আরও এক বাসিন্দা। দুজনেই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাত ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ জুয়েল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তাঁর দুই বন্ধু। তাঁরা নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথাবার্তা বলছিলেন। তখন কয়েকজন দুষ্কৃতী সেখানে তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘর থেকে বের করে এনে বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁদের। রক্তাক্ত অবস্থায় আশেপাশের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। জুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। ময়নাতদন্তের পর কফিনবন্দি দেহ সুতিতে পৌঁছায়। জুয়েলের মা নাজেমা বিবি বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলের অনেক স্বপ্ন ছিল। সব শেষ হয়ে গেল। ওকে পিটিয়ে মেরে ফেলল।’
তৃণমূলের তরফে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে বলা হয়, ‘‘বিজেপির বাংলাবিরোধী প্রচারের প্রত্যক্ষ ফলাফল ওড়িশার এই হত্যা। ভারতের এক জন নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করা হল কারণ, উন্মত্ত জনতা মনে করেছে বাঙালি মানেই অনুপ্রবেশকারী। অনবরত তাঁদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়ে যেতে হবে।’’এই দাবি অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে ওড়িশা পুলিশ। তাদের ব্যাখ্যা, বাংলা বলার কারণে বা বাংলাদেশি সন্দেহে নয়। বিড়ি নিয়ে বচসার জন্য বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।





