বাংলার প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর। স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya sathi)প্রকল্পের আওতায় এবার বেসরকারি হাসপাতালেও হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিসারেক্টমি এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আর্থোস্কোপিক অস্ত্রোপচার করানো যাবে। এই সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।
এতদিন স্বাস্থ্যসাথী চালু থাকলেও এই চার ধরনের অস্ত্রোপচার বেসরকারি হাসপাতালে করার অনুমতি ছিল না। স্বাস্থ্য দপ্তরের যুক্তি ছিল, সরকারি হাসপাতালগুলিতেই এই অস্ত্রোপচারের জন্য যথেষ্ট ও উন্নত পরিকাঠামো রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের তারিখ পেতে অনেক রোগীকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও আবার নির্দিষ্ট তারিখও মিলছে না, ফলে সমস্যায় পড়ছেন রোগীরা।
এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই নতুন নিয়মে আংশিক শিথিলতা আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সরকারি হাসপাতালে যদি হার্নিয়া, হাইড্রোসিল বা ফিসারেক্টমির অস্ত্রোপচার করা সম্ভব না হয় এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তা লিখিতভাবে জানিয়ে দেন, তবেই রোগী স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করে বেসরকারি হাসপাতালে ওই অস্ত্রোপচার করাতে পারবেন।
আর্থোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। কোনও দুর্ঘটনায় আহত রোগীর জরুরি ভিত্তিতে আর্থোস্কোপির প্রয়োজন হলে তবেই বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় তা করা যাবে। তবে ‘কোল্ড-ওটি’ অর্থাৎ যেসব অস্ত্রোপচার পরে করা সম্ভব, সেক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালে আর্থোস্কোপি করার অনুমতি থাকবে না।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্তার কথায়, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও একটি বিষয় নজরে এসেছে—সরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন এবং সেখানেই নিজেরা অস্ত্রোপচার করছেন। এই প্রবণতা রুখতেই নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বেসরকারি হাসপাতালে শুধুমাত্র সেখানকার নিজস্ব শল্যচিকিৎসকরাই এই অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। ওই হাসপাতালে যুক্ত কোনও সরকারি চিকিৎসক এই অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না।





