বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই ঘর গোছানো নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে সিপিএম। দলীয় অন্দরে অসন্তোষের সুর আগেই শোনা গিয়েছিল। এবার সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে এনে প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন দলের তরুণ মুখ প্রতীক-উর রহমান। দলীয় নেতৃত্বের ভাবনা ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলে দলের সব পদ থেকে অব্যহতি চাইলেন সিপিআইএম-এর (CPIM) ডায়মন্ড হারবারের প্রার্থী (Lokasabha candidate) প্রতীক-উর। এই সিদ্ধান্তের পিছনে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক দায়ী বলে কটাক্ষ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের।
দলের রাজ্য সম্পাদককে লেখা চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সাথে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্ত আপনাকে অবগত করলাম।” প্রতীক-উরের এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, তবে কি তিনি সরাসরি দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট? এর পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সিপিএমকে কটাক্ষ করে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘সিপিএমের বায়োলজিকাল ফেরেব্বাজ নেতৃত্বের অংশ ও ফেসবুকের সভ্যতাহীন ফুটেজ বিপ্লবীদের দাপটে সিপিএমেরই প্রথম সারির যুবনেতাদের অবস্থা ও সিদ্ধান্ত এরকম। SFI শীর্ষনেতা, জেলা নেতা, রাজ্য কমিটির কিছু দায়িত্বে থাকা ও গত লোকসভায় ডায়মন্ডহারবারে সিপিএম প্রার্থী প্রতীক উর। সিপিএমকে সর্বস্তরে 0 তে নামানো সম্পাদক ও তাঁর কিছু অযোগ্য বাতেলাবাজের কাঠিবাজিতে এই সিদ্ধান্ত বলে খবর।’
সম্প্রতি কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন কবীর। সেই বৈঠক ঘিরে জল্পনা ছড়ায়, সিপিএম কি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করতে হুমায়ুনের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটছে? সূত্রের খবর, ওই বৈঠক ভালোভাবে নেননি প্রতীক উর রহমান। বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির একাংশও নাকি সেলিমের এই পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু-কেও। তবুও অস্বস্তির আবহ কাটেনি বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তার মধ্যেই ‘পত্রবোমা’ ফাটিয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানালেন প্রতীক-উর রহমান। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে সরাসরি রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছেই।
ভোটের আগে এই ঘটনা সিপিএমের অন্দরে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব আসন্ন নির্বাচনী সমীকরণেও পড়তে পারে।





