রাজনৈতিক মেরুকরণের দিক থেকে শত বিরোধিতা থাকার সত্ত্বেও সৌজন্য বোধটুকু অটুট রয়েছে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে। তাঁরাই নিদর্শন দেখা গেল সোমবার। ৫ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। প্রতি বছরের মত এই বছরেও মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সকালেই সোশাল মিডিয়ায় ‘মমতা দিদি’ সম্বোধন করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।
সারা বছর রাজনৈতিক দ্বিমত নিয়ে দুই পক্ষের লড়াই সকলেরই জানা। ইদানীং ছাব্বিশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঘনঘন বঙ্গ সফরেও আসতে শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর যথারীতি রাজ্যে এসেই শাসক দলকে নিশানা করে একের পর এক মন্তব্য করেন তিনি। সেই সূত্র ধরেই তাঁর পালটা হুঙ্কার দিতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তবে শত কোন্দলের মাঝেও যতবার মোদি-মমতা মুখোমুখি হয়েছেন, দু’জনকেই অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল চিত্তে দেখা গিয়েছে। রাজনীতির গন্ডি ছাড়িয়ে সেই শ্রদ্ধার ছবি ধরা পড়ল সোমবার। এদিন সকালে সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। সোমবার সকালে এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা দিদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।’
সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালের ৫ জানুয়ারি জন্ম তাঁর। সেই হিসেবে এবছর ৭১ বছরে পা রাখলেন জননেত্রী। তবে সরকারি হিসেবে ৫ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন হলেও তাঁর জন্ম সম্পূর্ণ অন্য সময়। নিজের লেখা ‘একান্তে’ বইয়ের ৮৪ নং পাতায় সেকথা উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই পাতায় লেখা – ”মা’র কথানুযায়ী দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন সন্ধিপুজোর সময় আমার জন্ম। এর তিনদিন আগে থেকে নাকি শুরু হয়েছিল একটানা প্রবল বৃষ্টি। আমি চোখ খোলার পর নাকি বৃষ্টি থেমে যায়।“ তবে দুর্গাষ্টমী হোক কিংবা ৫ জানুয়ারি – জন্মদিনে কখনও তাঁকে বাড়িতে বসে থাকতে যায়নি। বাড়লেও পথে নেমে রাজনীতি করার ক্ষেত্রে এখনও তিনি হেলায় হারাতে পারেন বহু যুব নেতা-নেত্রীকে। রাজ্য থেকে জাতীয় – যে কোনও মিছিল, মিটিং, স্লোগানের মুখ একই – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনে আরও একবার তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার হাতছানি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটে জিতে আবারও তিনি সরকার গঠন করতে চলেছেন বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল।





