ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া বা এসআইআর শুরু হয়েছে রাজ্যে। নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত BLO- রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলির কাজ শুরু করেছেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে বুধবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি পৌঁছে গেলেন বিএলও। নিজে হাতে বিএলও-র কাছ থেকে নাকি এনুমারেশন ফর্ম নিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । বুধবার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এমনই খবর প্রকাশিত হয়। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর তরজা। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই খবরকে ‘মিথ্যাচার’ ওড়ালেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর দাবি, নিজে ফর্ম পূরণ করেননি। যতক্ষণ না পর্যন্ত বাংলার প্রতিটি মানুষ ফর্ম পূরণ করছেন, ততক্ষণ নিজে ফর্ম পূরণ করবেন না বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়ি সংলগ্ন অফিসে পৌঁছন। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য মোট ১৭টি এনুমারেশন ফর্ম দেন বিএলও। ফর্ম পূরণ করে পরবর্তী সময়ে তা জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এরপরই রটে যায় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান নাকি নিজে হাতে ফর্ম নিয়েছে। রটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নিজের সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “গতকাল দায়িত্বপ্রাপ্ত BLO আমাদের পাড়ায় এসেছিলেন তাঁদের নির্দিষ্ট কাজ করতে। কর্মসূত্রে, আমার রেসিডেন্স অফিসে এসে – রেসিডেন্সের ক’জন ভোটার জেনেছেন এবং ফর্ম দিয়ে গিয়েছেন। যতক্ষণ না বাংলার প্রতিটি মানুষ ফর্ম পূরণ করছেন, আমি নিজে কোনও ফর্ম পূরণ করিনি এবং করবও না। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সংবাদপত্র প্রকাশ করেছে যে, ‘আমি বাসভবন থেকে বেরিয়ে এসে নিজের হাতে BLO-র কাছ থেকে এনুমারেশন ফর্ম গ্রহণ করেছি!’ এই খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।”

প্রসঙ্গত, জানা গিয়েছে বুধবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ পৌঁছন আধিকারিক। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি তাঁর পরিচয়পত্র দেখান। সেই অনুযায়ী তাঁর পরিচয়পত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হয়। তারপর তিনি ব্যাগ ও মোবাইল জমা রেখে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন অফিসে পৌঁছন। প্রায় ঘণ্টাদেড়েক সেখানে ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য ১৭টি এনুমারেশন ফর্ম দিয়ে আসেন। ফর্ম ফিলআপ করে পরে জমা দেওয়া হবে বলেই পরিবারের সদস্যরা জানান। এছাড়া মদন মিত্র, সৌগত রায় এবং মালা রায়ের বাড়িতেও যান বিএলও।
উল্লেখ্য, রাজ্যে SIR শুরুর পর থেকেই এনিয়ে আমজনতার হাজার আশঙ্কা, উদ্বেগের মৃত্যুর মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে চলেছে। এসআইআরে যাতে একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ না পড়ে, সেই দাবি বরাবর করেছে তৃণমূল। এই আবহে রাজ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর নেপথ্যে এসআইআর আতঙ্কের অভিযোগ ওঠায় তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অযথা মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করার অভিযোগে পথে প্রতিবাদে নামেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তারই মাঝে চলছে এসআইআরের কাজ। এনুমারেশন ফর্ম ফিল আপের কাজ চলবে আগামী একমাস অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই একমাসের মধ্যে ওই ফর্মপূরণের কাজ হবে। তার ভিত্তিতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর।





