রাজ্য়ে এসআইআরের কাজের চাপে ফের বিএলও – র আত্মহত্য়ার অভিযোগ উঠল। এর আগেও কাজের চাপে বিএলওদের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। SIR শুরুর পর থেকে রাজ্যে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। পাশাপাশি দেশছাড়া হওয়ার আতঙ্কে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠছে। এসবের মাঝেই এবার মালবাজারে বাড়ির উঠোন থেকে উদ্ধার হল এক মহিলা বিএলও-র ঝুলন্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআরের কাজের চাপেই এই ঘটনা ঘটেছে। নিজেদের অফিস সামলে বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দেওয়া, জমা নেওয়ার কাজ করছেন। যা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাঁদের পক্ষে। এই ঘটনার শোকপ্রকাশ করে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় গোটা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
সূত্রের খবর, মৃতা বিএলও’র নাম শান্তিমুনি এক্কা। মালবাজারের রাঙামাটি পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তিনি। দিনকয়েক আগেই এসআইআরের কাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন শান্তিমুনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিচ্ছিলেন, জমাও নিচ্ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাই কাজের চাপ ছিল প্রবল। এরপর বুধবার সকালে বাড়ির উঠোনে মেলে মহিলার ঝুলন্ত দেহ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, আমি গভীরভাবে মর্মাহত এবং দুঃখিত। আজ আবারও, আমরা জলপাইগুড়ির মালে একজন বুথ লেভেল অফিসারকে হারিয়েছি – শ্রীমতি শান্তি মুনি এক্কা, একজন আদিবাসী মহিলা, একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী যিনি SIR কাজের অসহনীয় চাপের মুখে আত্মহত্যা করেছেন।‘
পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, SIR শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন — কেউ ভয় এবং অনিশ্চয়তার কারণে, আবার কেউ চাপ এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে। তথাকথিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আরোপিত অপরিকল্পিত, নিরলস কাজের চাপের কারণে এত মূল্যবান জীবন হারিয়ে যাচ্ছে। আগে যে প্রক্রিয়ায় ৩ বছর সময় লাগত, এখন নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক প্রভুদের খুশি করার জন্য ২ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে, BLO-দের উপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।‘ সেই সঙ্গে SIR বন্ধের দাবি জানিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান লেখেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে বিবেক দিয়ে কাজ করার এবং আরও প্রাণহানির আগে অবিলম্বে এই অপরিকল্পিত অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।‘
প্রসঙ্গত, ঘটনার পর মৃতার পরিবারের সদস্যরা খবর দেন থানায়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এসআইআরের কাজের চাপ ছিল প্রবল। যা শান্তিমুনি আর নিতে পারছিলেন না । এমনকি অবসাদেও ভুগতে শুরু করেছিলেন তিনি। সেই কারণেই নাকি এই চরম সিদ্ধান্ত। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। খবর পেয়েই রাজ্যের আদাবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বুলুচিক বড়াইক মৃতা বিএলও’র বাড়িতে যান এবং মৃতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাও বলেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।





