উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায়( North 24 Parganas) নিখোঁজ যুবক নাসির আলির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হল। ধৃত স্থানীয় বিএলও (BLO) রিজওয়ান হাসান মণ্ডলকে জেরা করেই পুলিশ বিভিন্ন খাল ও নদী থেকে প্যাকেটে ভরা নাসিরের টুকরো করা দেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় রিজওয়ানের সঙ্গে সাগর গায়েন নামে আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের পর দেহ তিনটি আলাদা জলাশয়ে ফেলা হয়েছিল। চাতরা ব্রিজের তলায় যমুনা খাল, চারঘাট এলাকার ইছামতী নদী এবং লালকুঠি এলাকার একটি ডোবয়। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেই পচাগলা দেহাংশ উদ্ধার হয়।
নাসির আলি পাপিলা গ্রামের বাসিন্দা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবার জানিয়েছে, SIR সংক্রান্ত কাগজ দেখানোর অজুহাতে এক ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে লালকুঠি এলাকায় ডেকে পাঠায়। মায়ের আধার ও ভোটার কার্ডের ফোটোকপি নিয়ে মোটরবাইকে বেরোনোর পর আর ফেরেননি নাসির। পরদিন একটি খালের ধারে নাসিরের জুতো এবং পরে খাল থেকে তাঁর মোটরবাইক উদ্ধার হয়। কিন্তু দেহের খোঁজ না মেলায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করেন। তদন্তে নামে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ ও বিশেষ তদন্তকারী দল।
অভিযানে রিজওয়ান হাসান মণ্ডলকে স্বরূপনগর এলাকা থেকে এবং সাগর গায়েনকে রামপুরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাঁদের বসিরহাট আদালতে পেশ করা হলে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেরায় অভিযুক্তরাই খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বিএলওর স্ত্রীর সঙ্গে নাসিরের সম্পর্কের জেরেই এই খুন। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।





