বিশ্বসঙ্গীতের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিগুলির মধ্যে একটি গ্র্যামি পুরস্কার (Grammy Award)। এবার সেই পুরষ্কারে সম্মানিত হলেন নবতিপর তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মগুরু দলাই লামা (Dalai Lama)। রবিবার আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেরা অডিয়ো বুক বিভাগে তাঁর অ্যালবাম ‘মেডিটেশন: দ্য রিফ্লেকশন্স অব হিজ হোলিনেস, দ্য দলাই লামা(Meditations: The Reflections of His Holiness, The Dalai Lama)’ পুরস্কৃত হয়। দলাই লামার পক্ষে মঞ্চে পুরস্কার গ্রহণ করেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী রুফাস ওয়েনরাইট।

উল্লেখ্য দলাই লামার এই অ্যালবামটি প্রচলিত অর্থে গানের সংকলন নয়। এতে রয়েছে দলাই লামার শান্তি, মানবতা, ধৈর্য ও আশার বার্তা—যার সঙ্গে আবহসঙ্গীতের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন প্রখ্যাত সরোদশিল্পী ওস্তাদ আমজাদ আলি খান এবং তাঁর দুই পুত্র আমান আলি বাঙ্গাশ ও আয়ান আলি বাঙ্গাশ। কথামালার সঙ্গে সুরের এই সংযোজন শ্রোতাদের কাছে এক অনন্য শ্রবণ-অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
পুরস্কারপ্রাপ্তির পর প্রতিক্রিয়ায় দলাই লামা জানান, “কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আমি এই সম্মান গ্রহণ করছি। এটিকে আমি ব্যক্তিগত প্রাপ্তি হিসেবে দেখি না; বরং এটি আমাদের সবার যৌথ দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের সকল মানুষের কল্যাণের জন্য শান্তি, ধৈর্য, পরিবেশের প্রতি যত্ন এবং মানবিকতা অত্যন্ত জরুরি। গ্র্যামি পুরস্কার এই বার্তাগুলিকে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করবে।”
সঙ্গীত জগতে গ্র্যামির মর্যাদা প্রশ্নাতীত। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই সম্মান পাওয়ার ফলে দলাই লামার ভাবনা ও দর্শন বিশ্বজুড়ে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেরা অডিয়ো বুক বিভাগে একাধিক উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম প্রতিযোগিতায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেরার শিরোপা ওঠে এই বৌদ্ধ ধর্মগুরুর বার্তাময় অ্যালবামটির ঝুলিতে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সঙ্গীতশিল্পী নন—এমন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অতীতেও গ্র্যামি পুরস্কার পেয়েছেন। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা-ভিত্তিক অডিয়ো সংকলনের জন্য দু’বার গ্র্যামি অর্জন করেন—২০০৬ সালে ‘ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার (Dreams from My Father)’ এবং ২০০৮ সালে ‘দ্য অডাসিটি অব হোপ (The Audacity of Hope)’এর জন্য। একই তালিকায় রয়েছেন মিশেল ওবামা এবং অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবস—যিনি আইপডের মাধ্যমে সঙ্গীতপ্রসারে বিশেষ অবদানের জন্য মরণোত্তর গ্র্যামি সম্মানে ভূষিত হন।
সব মিলিয়ে, এই পুরস্কার শুধু একটি অ্যালবামের স্বীকৃতি নয়—এটি শান্তি ও মানবতার বার্তাকে বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।





