Header AD

স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও জাতিভেদ! সুপ্রিম রোষে UGC র নতুন বিধি স্থগিত

ভারতের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় সমতা বজায় রাখা এবং জাতিগত বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যে নতুন নিয়ম জারি করেছিল, তার বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আজ, বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে , ২০২৬ সালের এই নতুন নিয়ম আপাতত কার্যকর হবে না। পরিবর্তে, ২০১২ সালের পুরনো নিয়মই আপাতত বলবৎ থাকবে। নতুন বিধি সমাজে ‘বৈষম্য’ সৃষ্টি করতে পারে, তাই এভাবে পর্যবেক্ষণ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকার ও ইউজিসি-কে নোটিস পাঠিয়ে আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইউজিসি-র বিজ্ঞপ্তি জারি করা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কি দেশ বিভাজনের পথে ফিরে যাচ্ছে?

সম্প্রতি কিছু দিন আগেই সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে চালু হয়েছে ইউজিসির নয়া ইক্যুইটি রেগুলেশনের বিধি। ইউজিসির নতুন এই বিধিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ তৈরি করতে হবে। একটি ‘ইকুইটি কমিটি’ থাকবে। এই কমিটির সদস্য হবেন তফশিলি জাতি, উপজাতি, অনগ্রসর শ্রেণি, বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং মহিলারা। এই বিষয়টি নিয়েই প্রবল আপত্তি দেখাতে শুরু করেছে অসংরক্ষিত শ্রেণি বা জেনারেল ক্যাটাগরির পড়ুয়ারা। এই নতুন বিধিতে এটাও বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে একটি ‘ইকুইটি হেল্পলাইন’ নম্বর থাকবে। বিধি ভঙ্গ হলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে সেই প্রতিষ্ঠানের বৈধতা বাতিল করে দেওয়া হতে পারে। এই নিয়মের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউজিসি-র প্রধান কার্যালয়ের সামনেও প্রতিবাদে শামিল হন এক দল পড়ুয়া। এই বিধি কার্যকর হতেই এই নিয়ে বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে।

বিশেষ করে জেনারেল কাস্ট বা সাধারণ শ্রেণিভুক্ত পড়ুয়ারা ওই বিধির বিরোধিতায় সরব। তাদের দাবি, নতুন এই বিধির মাধ্যমে আদতে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে। নতুন বিধি কার্যকর হলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হবে। অসংরক্ষিত পড়ুয়াদের একটা ঘেরাটোপের মধ্যে থাকতে হবে। নতুন নিয়ম চালু হলে যে কোনও পড়ুয়াই মিথ্যা অভিযোগের শিকার হতে পারেন। এর বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনেরও কোনও সুযোগ থাকবে না। প্রবল প্রতিক্রিয়ার মধ্যে এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়। আজ, বৃহস্পতিবার এই নয়া বিধিতে নয়া নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর কি আমরা জাতিগত বিভাজনের পথে এগচ্ছি? জাতিহীন সমাজ গড়ার পথে যতটা অগ্রগতি এতদিনে হয়েছে, সেটা কি নষ্ট হয়ে যাবে?”

যদিও এ বিষয় নিয়ে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে আগেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, এই বিধি কোনওরকম বিভাজনের উদ্দেশে আনা নয়। বরং বিভাজন দূর করার জন্য। আসলে এই নতুন ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন আইন, ২০২৬’ অনুসারে একাধিক বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম ধর্ম, লিঙ্গ কিংবা জাতিগত কোনও ধরনের বৈষম্য দূর করা। ইউজিসির দেওয়া তথ্য অনুসারে, পাঁচ বছরে বর্ণ বৈষম্যের অভিযোগ ১১৮.৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০ সালে যেখানে ১৭৩টি অভিযোগ জমা পড়েছিল, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে ৩৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে।