এসএসকেএম হাসপাতালে নাবালিকা রোগীকে যৌন নিগ্রহের ঘটনায় ধৃত যুবককে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। শুক্রবার তাঁকে পকসো আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। পুলিশের তরফে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানানো হয়। চাওয়া হয়েছে গোপন জবানবন্দি নেওয়ার অনুমতিও। ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দত্তপুকুরে নির্যাতিতার বাড়িতে যান শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যরা। কথা বলেন পরিবারের লোকজনের সঙ্গে।
জানা গিয়েছে, বুধবার চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়েছিল ওই নাবালিকা। সেই সময়েই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, ৩৪ বছরের অস্থায়ী কর্মী অমিত মল্লিক ১৫ বছরের ওই কিশোরীকে শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্তা করেন। এসএসকেএম-এর আউট পোস্ট থেকে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পরেই ভবানীপুর থানা নিগৃহীতার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তার বক্তব্য রেকর্ড করে। এরপরই তল্লাশি চালিয়ে বুধবার রাতেই ধাপা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ভবানীপুর থানার পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে বিএনএস ২০২৩ এর ৬৫(১) ধারার অধীনে পকসো আইন, ২০১২-র ৪ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করে ভবানীপুর থানার পুলিশ। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বাইপাস সংলগ্ন ধাপা এলাকার বাসিন্দা অমিত শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে গ্রুপ ডি কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার এসএসকেএম-এর বহির্বিভাগে গিয়েছিল এই অভিযুক্ত। নিজেকে ‘চিকিৎসক’ পরিচয় দিয়ে হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের শৌচাগারে নিয়ে যায় ওই নাবালিকাকে। সেখানেই তাকে যৌন নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে নাবালিকার চিৎকারে অন্যরা ছুটে এলে হাতেনাতে ধরা পড়ে অমিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই হাসপাতাল চত্বরের একাধিক সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। যুবক যে ওই কিশোরীকে নিয়ে শৌচালয়ের দিকে যাচ্ছেন, তা ফুটেজে দেখা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষায় আগ্রহী। গোপন জবানবন্দিও নিতে চান আধিকারিকেরা। এ ছাড়া, রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পৃথক ভাবে রিপোর্ট তলব করেছে।





