Header AD

সাহিত্য অকাডেমির কাজে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ! প্রতিবাদে বাংলাসহ ৭ রাজ্যের জন্য নতুন পুরস্কার ঘোষণা স্ট্যালিনের

দেশের সাহিত্য জগতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান ‘সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার’। সেই ঘোষণা নিয়ে কেন্দ্রের ‘হস্তক্ষেপের’ ফলে নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশ জুড়ে। কয়েক মাস আগে দিল্লির রবীন্দ্র ভবনে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার জন্যে সাংবাদিক বৈঠক করার কথা জানিয়ে দিয়েও শেষ মুহূর্তে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জানা যায় কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের নির্দেশেই এমন কাণ্ড হয়েছিল। স্বাশাসিত সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপের দরুন ক্ষুব্ধ হয়েছিল সাহিত্য মহলও। এই আবহে অভিনব পদক্ষেপ নিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। বাংলাসহ সাতটি ভাষার জন্য জাতীয় স্তরে নতুন সাহিত্য পুরস্কার চালু করল তামিলনাড়ু সরকার।

চেন্নাই আন্তর্জাতিক বইমেলার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারত এবং বিভিন্ন দেশের লেখক, প্রকাশক এবং সাহিত্যিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সাতটি ভারতীয় ভাষার জন্য জাতীয় স্তরের সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা করেন। ‘সেম্মোঝি ইলাকিয়া ভিরুধু’ শিরোনামের এই পুরস্কারটি প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলা, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম, ওড়িয়া এবং মারাঠি—এই সাতটি ভাষায় সাহিত্যের জন্য প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে প্রতিটি পুরস্কারে ৫ লক্ষ টাকা নগদ এবং স্বাধীন বিচারকদের মাধ্যমে স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। স্ট্যালিনের এই উদ্যোগ আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যিকদের অনেকটাই উৎসাহিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিটি ভাষার জন্য বিশিষ্ট এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের একটি কমিটি গঠন করা হবে।

এই বিষয়ে স্ট্যালিন জানান, প্রতিটি ভাষার জন্য আলাদা জুরি বোর্ড গঠন করা হবে যাতে স্বচ্ছতা সম্পূর্ণ রূপে বজায় থাকে। গত ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের একটি নির্দেশিকার পর সাহিত্য অকাডেমি তাদের বার্ষিক পুরস্কার ঘোষণা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে “বিপজ্জনক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ„ বলে অভিহিত করে তিনি। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাহিত্য অকাডেমি পুরস্কার আদৌ প্রদান করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি আরও জানান যে, দেশের বহু লেখক ও সাহিত্য সংগঠন তামিলনাড়ু সরকারকে এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় গঠনমূলক ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। কেন্দ্র সরকারের এই ‘নিয়ন্ত্রণমূলক’ আচরণের পালটা জবাব হিসেবেই স্ট্যালিন এই নতুন জাতীয় পুরস্কারের কথা ঘোষণা করলেন। স্ট্যালিনের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে সাহিত্যিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং এটি আঞ্চলিক সাহিত্যের মর্যাদা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের এই বিবাদের সম্পর্কের জল গড়িয়েছে বিধানসভা পর্যন্তও। আজ, মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনের প্রথম দিনেই ভাষণ না দিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে বেরিয়ে গেলেন রাজ্যপাল এন রবি। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভায় জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করেছে ডিএমকে সরকার। তার পাশাপাশি, তার বক্তৃতার সময় রাজ্যপালের বারবার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তোলেন। এরপরই এর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তিনি বলেন, “ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যপাল এমন কাজ করে বিধানসভার নীতি এবং ঐতিহ্য লঙ্ঘন করেছেন।” তামিলনাড়ুতে রয়েছে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন বিজেপি-বিরোধী ডিএমকে সরকার। এর আগেও বহুবার সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না করেই বিধানসভা ছেড়েছেন রাজ্যপাল। এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল।