Header AD

বিমান ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র! ইন্ডিগোর সিইওকে তলব ডিজিসিএর

গত এক সপ্তাহ ধরে বিমান বিভ্রান্তির জেরে নানা সংকটের সম্মুখীন হতে হয়েছে যাত্রীদের। যার নেপথ্যে রয়েছে বিমানসংস্থা ইন্ডিগোর অব্যবস্থা। এই ঘটনায় এবার দিল্লি হাই কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় সরকার। ইন্ডিগোর বিপর্যয়ের মধ্যে অন্য বিমান সংস্থাগুলি ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ায়। যা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আদালত। ইন্ডিগো বিভ্রাটের জেরে বিমান যাত্রীদের ভোগান্তি বুধবারও অব্যাহত ছিল। কিন্তু উড়ান বাতিল হওয়ার সংখ্যা কমেছে অনেকটাই। এই প্রেক্ষাপটে এ বার ইন্ডিগো সংস্থার সিইও-কে হাজিরা দিতে বলেছে উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ। উড়ান বাতিল সংক্রান্ত সব তথ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। দেশের বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রীদের কতটা ভোগান্তি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার তৎপর হয়েছে ডিজিসিএ। এর আগে ইন্ডিগোর সিইও-র সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু।

ইন্ডিগো সংস্থার এহেন পরিস্থিতিকে ‘সংকট’ বলে চিহ্নিত করেছেন দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি গেদেলার বেঞ্চ। শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “যদি কোনও সংকট দেখা দেয়, তা হলে অন্য বিমান সংস্থাগুলিকে কী ভাবে সুবিধা নেওয়ার অনুমতি দিতে পারে? কী ভাবে বিমানভাড়া ৩৫-৪০ হাজার পর্যন্ত বাড়তে পারে? কী এমন ঘটতে পারে?”। ডিজিসিএ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর দুপুরে ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্সকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাদের দফতরে। উড়ান বিভ্রাট সংক্রান্ত সব নথিও নিয়ে যেতে বলা হয়েছে তাঁকে। পিটারের সঙ্গে সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকেরাও থাকবেন বৈঠকে। প্রসঙ্গত, উড়ান বিভ্রাট নিয়ে ডিজিসিএ-র উপরে চাপ বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী নায়ডু জানান, শুধু ইন্ডিগো নয়, ডিজিসিএ-কেও তদন্তের আওতায় আনা হবে। ইন্ডিগো বিপর্যয়ে কী ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে ডিজিসিএ, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এ-ও স্পষ্ট করেন, প্রয়োজনে ইন্ডিগোর সিইও পিটারকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

বুধবার আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দেশের ১১টি বিমানবন্দরে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে। দু’ থেকে তিন দিনের মধ্যে এই কাজ সারতে হবে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে ডিজিসিএ-কে। যে বিমানবন্দরগুলিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে আধিকারিকদের, সেগুলি হল— নাগপুর, জয়পুর, ভোপাল, সুরত, তিরুপতি, বিজয়ওয়াড়া, শিরডী, কোচি, লখনউ, অমৃতসর, দেহরাদুন। এই ১১টি বিমানবন্দরে গিয়ে আধিকারিকদের দেখতে হবে, বিভ্রাটের সময় কী ভাবে মোকাবিলা করেছেন কর্তৃপক্ষ, যাত্রীসুরক্ষা কতটা মানা হয়েছে এই বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে।