রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা নিয়ে শনিবার নবান্নে মুখ্যসচিবের ডাকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সব জেলার সিএমওএইচদের পাশাপাশি জেলাশাসক, পুলিশ সুপাররা ও রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি যোগ দেন বৈঠকে। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী ফোনে বলেন, “হাসপাতালের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে কোনও খামতি মেনে নেওয়া হবে না।” বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের ক্ষেত্রে বড়সড় নির্দেশ দেন তিনি। বলেছেন, “পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া প্রাইভেট নিরাপত্তা কর্মীদের হাসপাতালে নিয়োগ করা যাবে না।এছাড়া হাসপাতালের সর্বত্র বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা যেতেও পারবেন না।” কর্মী নিয়োগের আগে তাঁদের অতীত কাজের রেকর্ড খুঁটিয়ে দেখার পরামর্শও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নিরাপত্তা কর্মীদের পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্যও একাধিক নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠক থেকে। একদিকে চুক্তিভিত্তিক সব কর্মীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা ও সেই সঙ্গে তাঁদের ডিউটি রোস্টার প্রতিদিন পরীক্ষা করতে হবে বলে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে রোস্টার অনুযায়ী তাঁরা প্রত্যেকে নিজেদের জায়গায় কাজ করছেন কি না, তার উপর নজরদারি চালানোর কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি জোর দিতে বলেন, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের আচরণের বিষয়ে। হাসপাতালগুলির নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার ও নিচুস্তরের নিরাপত্তা কর্মীদের। এই দুই শ্রেণির কর্মীদের প্রশিক্ষণে জোর দিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। যে সব সিসিটিভি বিভিন্ন হাসপাতালে অকোজো হয়ে পড়ে রয়েছে তা দ্রুত মেরামতির নির্দেশ দেন তিনি। সিসিটিভি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি লাগানো হলেও তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। যদি সিসিটিভি কার্যকরভাবে মনিটর হয় তাহলে একটি পুরুষ শৌচাগারে কীভাবে নাবালিকাকে নিয়ে গেল ?” হাসপাতাল চত্বরে দালালচক্র ও ভেজাল ওষুধের রমরমা রুখতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। রোগী ও তাঁদের পরিবার যেন কোনওভাবেই প্রতারণার শিকার না হন,সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।





