Header AD
Trending

পঞ্চানন বর্মার জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

রাজবংশী সমাজের প্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব রায়সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বার্তায় তিনি এই প্রবাদপ্রতিম মনীষীর প্রতি বিনম্র প্রণাম জ্ঞাপন করেন এবং এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজবংশী সংস্কৃতির বিকাশ এবং পঞ্চানন বর্মার স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে রাজ্য সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কোচবিহারে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর জন্মস্থান খলিসামারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসও চালু হয়েছে। তাঁর বাসভবন সংস্কার করে সেখানে ‘পঞ্চানন বর্মা সংগ্রহশালা ও গবেষণাকেন্দ্র’ গড়ে তোলা হয়েছে এবং স্থাপন করা হয়েছে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তি। তাঁর জন্মদিনকে রাজ্যে সরকারি ছুটি হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজবংশী সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী ‘নারায়ণী সেনা’র স্মৃতিকে সম্মান জানাতে রাজ্য পুলিশের অধীনে ‘নারায়ণী’ ব্যাটেলিয়ন গঠন করা হয়েছে। রাজবংশী ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি কামতাপুরী, সাঁওতালী, কুরুখ, কুড়মালী, নেপালি, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি ও তেলুগু ভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সাদরি ভাষার উন্নয়নেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রাজবংশী সমাজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় গঠন করা হয়েছে রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, রাজবংশী কালচারাল একাডেমি, রাজবংশী ভাষা একাডেমি এবং কামতাপুরী ভাষা একাডেমি। প্রায় ২০০টি রাজবংশী স্কুলকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

কোচ-রাজবংশী বীরত্বের প্রতীক বীর চিলারায়ের স্মরণে কোচবিহারের বাবুরহাটে স্থাপন করা হয়েছে ১৫ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জ মূর্তি। তাঁর জন্মদিনে উত্তরবঙ্গে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি কোচ-কামতাপুরী-রাজবংশী ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষায় সমগ্র কোচবিহার শহরকে ‘হেরিটেজ সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

পঞ্চানন বর্মার আদর্শ ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুনরায় রাজবংশী সমাজের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন।