আন্তর্জাতিক নারীদিবস উপলক্ষে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রাজ্যের নারী সমাজকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করে তিনি যেমন নারী শক্তিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তেমনই কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাও করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, রাজ্য সরকার সব সময় সমাজের সব স্তরের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। অন্যদিকে তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের নীতির ফলে সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। কেন্দ্র সরকারের কাজ মানুষকে হয়রানি করা বলেও ওই পোস্টে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব ভারতের বাজারেও পড়ছে বলে আলোচনা চলছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী আজ রাজ্যের নারীদের প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অনেক মহিলা কালো শাড়ি পরে পথে নামবেন।
নারী শক্তির ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বাংলার বহু বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মাতঙ্গিনী হাজরা, কল্পনা দত্ত, বীনা দাস, সুনীতি চৌধুরী এবং মানবসেবার প্রতীক মাদার টেরেসা।
এদিন তাঁর বার্তায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নারীকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পে বর্তমানে উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪১ লক্ষ। ভাতার অঙ্কও বাড়ানো হয়েছে—তফসিলি জাতি ও আদিবাসী পরিবারের মহিলারা এখন মাসে ১৭০০ টাকা এবং অন্যান্যরা ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন।
এছাড়া স্বাস্থ্য সাথী (Swasthya Sathi) প্রকল্পের স্মার্ট কার্ড পরিবারের মহিলা সদস্যদের নামে দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন। শিক্ষাক্ষেত্রেও মেয়েদের জন্য চালু রয়েছে কন্যাশ্রী (Kanyashree), যেখানে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ছাত্রী উপকৃত হচ্ছে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিও পেয়েছে এই প্রকল্প। মেয়েদের বিবাহের জন্য রূপশ্রী (Rupashree) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৩ লক্ষ মহিলাকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সবুজ সাথী (Sabuj Sathi) প্রকল্পে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ১ কোটি ৪৮ লক্ষ সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭৯ লক্ষ পেয়েছে মেয়েরা।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে ইতিমধ্যেই অপরাজিতা বিল (Aparajita Bill) পাশ করা হয়েছে। এছাড়া ৪৯টি মহিলা থানার পাশাপাশি মহিলাদের জন্য ৫২টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টও চালু করা হয়েছে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়।
নারী দিবসে তাঁর বার্তা—নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ভবিষ্যতেও একইভাবে কাজ করে যাবে।



