এস আই আর-এর তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর বহু জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ বলে দেখানো হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। এই ঘটনায় সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে রাজনৈতিক চাপ তুঙ্গে ওঠে। এই আবহে তিন ‘মৃত’ ভোটারকে ভরা জনসভায় র্যাম্প ওয়ার্ক করিয়ে নিয়ে এসে নির্বাচন কমিশনকে তুলোধোনা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গাফিলতির ‘লজ্জা’ ঢাকতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার তিনটি বুথের বিএলওদের শোকজ করা হল। পাশাপাশি জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন জানতে চেয়েছে, কী ভাবে এত বড় ত্রুটি ঘটল তার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। সবমিলিয়ে অভিষেকের তরফে র্যাম্পে ‘ভূত’ হাঁটানোর পর ‘সক্রিয়’ হতে দেখা গেল নির্বাচন কমিশনকে।ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জানুয়ারি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের জনসভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে তিন জন ভোটারকে হাজির করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “এই যে তিন জনকে দেখছেন, তাঁদের এই দু’জন (সভামঞ্চে হাজির হওয়া দুই পুরুষকে দেখিয়ে) মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা। আর ইনি (মহিলাকে দেখিয়ে) কাকদ্বীপের বাসিন্দা। নির্বাচন কমিশন এঁদের মৃত ঘোষণা করেছে। শুধু এঁরাই নয়, এঁদের মতো আরও ২৪ জন রয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, যাঁদের মৃত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।” কেন জীবিতকে মৃত দেখানো হল তার জবাব চান অভিষেক। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই দ্রুত তদন্ত শুরু করে কমিশন। জেলাশাসকের রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা যায়, এই ভুলটি ‘অনিচ্ছাকৃত’ ভাবে ওয়েবসাইটে তথ্য আপলোডের সময় ঘটেছে। গাফিলতির কারণে সংশ্লিষ্ট BLO-দের কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে সত্য যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে গত শনিবার পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। যারা এই দায়িত্বে ছিলেন সেই বিএলওদের শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের এক কাউন্সিলরকেও একই ভাবে কমিশন প্রকাশিত খসড়া তালিকায় মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। যা নিয়ে ব্যাপক শোরগোলও হয়েছিল। এ ঘটনায় পরে জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল কমিশন।




