Header AD

বিজেপির চাপে SIR শুনানির মাধ্যমে মানুষকে হয়রান করছে কমিশন! সাংবাদিক সম্মেলনে তোপ তৃণমূল নেতৃত্বের

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর চলাকালীন সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। এই অভিযোগে এবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। নির্বাচন কমিশন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে শাসকদল অভিযোগ করে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির চাপে কাজ করছে। বেছে বেছে প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। শনিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডা. মানস রঞ্জন ভূইঞা, মলয় ঘটক, অরূপ বিশ্বাস এবং ডা. শশী পাঁজা। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, কেন্দ্রীয় স্তরে এএসডিডি ক্যাটাগরির মাধ্যমে ইআরও নেট থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় বা জেলা স্তরের সিদ্ধান্ত নয়। তাঁর আশঙ্কা, বিরোধীরা আগে যে ২ কোটি নাম বাদের ইঙ্গিত দিয়েছিল, এটি সেই চক্রান্তেরই অংশ। এছাড়া, শুনানির জন্য বয়স্ক ও দুর্বল মানুষদের ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরে ডাকার যৌক্তিকতা এবং ডিইও-র ভূমিকা উপেক্ষা করে ইআরও স্তরেই নাম বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাস কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “এটা নির্বাচন কমিশনের অফিস না কি বিজেপির কার্যালয়?” দিল্লি থেকে বিজেপি নির্দেশ পাঠাচ্ছে আর সেই ভাবেই মানুষের নাম বাদ যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে বাদ পড়া নামের তালিকা ও তার কারণ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কমিশনের আধিকারিকরা সঠিকভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় কমিশনের স্বাধীনতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। BLO app কাজ করছে না সেখানে ভোটারদের তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। সিইও মনোজ কুমার -এর কি ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের দ্বিতীয় পর্যায়ের রি-ভেরিফিকেশন চলাকালীন বিপুল সংখ্যক ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মানুষকে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। শাসকদলের আরও অভিযোগ একটি বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে এসআইআর এর সার্ভের কাজ করানো হচ্ছে, যে সংস্থাটি একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করে। ফর্ম ৬, ৭, ৮ এগুলি কার কাছে জমা দেবে সাধারণ মানুষ, কারণ বিএলও সব সময় বসছেন না, ফলে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। এই সমস্ত প্রশ্ন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সিইও-র কাছে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, যার জবাব তাঁরা চান ।

সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের পরিবারের একটি ঘটনা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তৃণমূল নেতারা জানান, মন্ত্রীর মেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করেন, অথচ তাঁকেও শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতৃত্বের প্রশ্ন, সমস্ত তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন সাধারণ নাগরিক এবং জনপ্রতিনিধিদের পরিবারকে এভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে?। তবে এই হয়রানি দল যে মুখ বুজে সহ্য করবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁরা ঘোষণা করেছেন, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে এই লড়াই চালিয়ে যাবে তৃণমূল।