Header AD

লোকভবনকে বিজেপির ‘পার্টি অফিস’বানানোর চক্রান্ত! ধর্নামঞ্চ থেকে রাজ্যপাল বদল প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে বিজেপি পরিকল্পিত চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে ফের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শনিবার মেট্রো চ্যানেলের SIR-এর প্রতিবাদে ধর্নামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, রাজ্যপাল বদলের কারণ তিনি জানেন। এবং একইসঙ্গে লোকভবনকে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে বলেও অভিযোগ করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

মমতার অভিযোগ, বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose)-কে ভয় দেখিয়ে সরানো হয়েছে, যাতে তাঁর জায়গায় বিজেপি তাদের পছন্দের রাজ্যপাল আর এন রবি (R N Ravi)-কে বসাতে পারে। তিনি আরও বলেন, রাজভবনকে বিজেপির পার্টি অফিসে পরিণত করার চেষ্টা চলছে এবং নির্বাচনের সময় সেখান থেকেই টাকা বিলির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেখলেন তো কীভাবে এখানকার মাননীয় প্রাক্তন রাজ্যপালকে সরানো হল। কেন সরানো হয়েছে তা আমি জানি। ভয় দেখিয়ে সরানো হয়েছে। রাজভবনকে বিজেপির পার্টি অফিস বানানোর চেষ্টা চলছে, সেখান থেকেই টাকা বিলি হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, আনন্দ বোসকে সরিয়ে আর এন রবি (R N Ravi)-কে বাংলার রাজ্যপাল করা হয়েছে বিজেপির বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য। মমতার কথায়, “তামিলনাড়ুতে দায়িত্ব পালন করার সময়ও রবিকে নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) পর্যন্ত গড়িয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশ ছাড়া তিনি কোনও কাজ করেন না।বিজেপির একেবারে প্যারেড (parade) করা ক্যাডার।”

তবে বাংলায় সেই পরিকল্পনা সফল হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলা অন্যরকম। এখানে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কোনও ছলচাতুরি সহজে মেনে নেওয়া হবে না। মমতার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “বাংলা কিন্তু অন্য রকম। তামিলনাড়ুতে যা করেছেন করেছেন। রোজ স্ট্যালিনদের ফেস করতে হয়েছে।আদতে বিজেপি নিজের উদ্দেশ্য সাধন করতে কোনও পদ, কোনও ব্যক্তির কোনও সম্মান বজায় রাখে না, বাংলার রাজ্যপাল বদল তার আরও এক উদাহরণ।”

এদিনের মঞ্চ থেকে মমতা আরও প্রশ্ন তোলেন, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেন রাজ্যপাল বদল করা হল। তাঁর কথায়, এর আগেও বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar)-কে নির্বাচনের পরে উপরাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল এবং পরে তাকেও কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়।

তৃণমূল নেত্রীর ইঙ্গিত, বিজেপির নীতির সঙ্গে একমত না হওয়াতেই হয়তো সরে যেতে হয়েছে আনন্দ বোসকে। যদিও পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে চাননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কারণটা আমি জানি, কিন্তু এখন বলব না। শুধু এটুকু বলব, তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই চান না রাজভবন বিজেপির পার্টি অফিস হয়ে যাক বা সেখান থেকে টাকা বিলি হোক।”

শেষে বিজেপির নৈতিকতা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ক্ষমতা দখলের জন্য বিজেপি যে কোনও সীমা অতিক্রম করতে পারে। এমনকি ইতিহাসের বিতর্কিত শাসক মহম্মদ বিন তুঘলকের সঙ্গেও তুলনা টানেন তিনি।