Header AD
Trending

ভুয়ো লগ্নি অ্যাপের মাধ্যমে সাইবার জালিয়াতি! পুলিশের হেফাজতে এক শিল্পপতি

৩০০ কোটি টাকার সাইবার জালিয়াতি। পুলিশের হেফাজতে এক শিল্পপতি। রাজ্য পুলিশের দাবি, ভুয়ো লগ্নি অ্যাপ-সহ একাধিক পদ্ধতিতে এই রাজ্য-সহ সারা দেশে প্রায় হাজারের উপর ব্যক্তি এই সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সেই প্রতারণার টাকার একটি বড় অংশ শহরের ওই শিল্পপতি, তাঁর সংস্থা এবং পরিবারের লোকেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে পুলিশের কাছে। ইতিমধ্যেই  তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, তদন্তের জন্য শহরে ওই শিল্পপতির বাড়িতেও গোয়েন্দারা গিয়েছিলেন। শিল্পপতির পরিবারের কয়েকজন ও তাঁর সংস্থার কয়েকজন আধিকারিককে  জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে সাইবার অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে রাজ্য পুলিশের সাইবার গোয়েন্দাদের হাতে আসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, লগ্নির নামে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, আবার কখনও বা ডিজিটাল গ্রেপ্তারির নামে ভয় দেখিয়ে ও বেশ কয়েকটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে সাইবার জালিয়াতির জন্য। জালিয়াতির কয়েক কোটি টাকা অন্যপথে বেশ কিছু সংস্থার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। সাইবার জালিয়াতরা বিপুল পরিমাণ বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে পাঠায়। অল্প সময়ের মধ্যেই  ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যায়। এছাড়াও  ভুয়ো কোম্পানির নামে এই অ্যাকাউন্টগুলি তৈরি করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।

সাইবার জালিয়াতির একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে বিদেশেও, এমন তথ্যও পেয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশেরা। তাঁদের কথায়, তদন্তে নেমে হদিস মিলেছে একটি বেসরকারি সংস্থার।  ১১টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে ওই সংস্থা ও তার কয়েকটি শাখা সংস্থার নামে। ১১টি অ্যাকাউন্টেই মিলেছে বিপুল টাকার লেনদেন। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, শুধু এই ১১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেই লেনদেন হয়েছে ৯৭ কোটি টাকা। যার সঙ্গে দেশজুড়ে ৫৪৪টি সাইবার অপরাধের যোগ রয়েছে । ওই শিল্পপতির সঙ্গে ওই টাকার একটি অংশের এবং তাঁর পরিবারের লোক এবং সংস্থা জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শিল্পপতি ও তাঁর পরিবারের লোকেদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাচার হয়েছে অন্তত ২৩ টি সাইবার জালিয়াতির টাকা। প্রাথমিকভাবে ১৪৭ টি সংস্থার নাম উঠে এসেছে সাইবার অপরাধের টাকা সরানোর ক্ষেত্রে। ৭৩ টি সংস্থা এর মধ্যে মধ্য কলকাতার বড়বাজার এলাকার একটি ঠিকানার এবং বাকি অফিসগুলির ঠিকানা শহরের অন্যান্য জায়গায়। গোয়েন্দাদের দাবি, তিনশো কোটি টাকা সাইবার জালিয়াতিতে দেশজুড়ে প্রায় ১৪০০টি সংস্থা ও ভুয়ো সংস্থার হদিস  মিলেছে এখনও পর্যন্ত। যাদের নামে ওই সংস্থাগুলি পুলিশ শুরু করেছে তাদের সন্ধান।