Header AD

বাংলায় বসে আমেরিকার নাগরিকদের সঙ্গে সাইবার প্রতারণা! মহেশতলায় পুলিশের জালে ৮

মহেশতলার একটি ফ্ল্যাট থেকেই চলছিল সুদূর আমেরিকায় সাইবার প্রতারণার চক্র। মাইক্রোসফটের টেকনিক্যাল সাপোর্ট কর্মী পরিচয় দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের ফাঁদে ফেলত প্রতারকরা। বৃহস্পতিবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে এই ভুয়ো কলসেন্টার ভেঙে দিল কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮ জনকে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৫টি ল্যাপটপ, ১২টি মোবাইল ও ২টি রাউটার। ধৃতদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, মাইক্রোসফটের নামে ভুয়ো কল সেন্টার খুলে তারা মার্কিন নাগরিকদের সাইবার প্রতারণার জালে ফেলত। তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজনের বয়স ১৮ বছর। অভিযুক্তরা গার্ডেনরিচ, এন্টালি, বেনিয়াপুকুর, তিলজলা, নিউ মার্কেট, কড়েয়া ও শ্রীরামপুরের বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরে আঁটঘাট বেঁধেই সাইবার প্রতারণার জাল বিছিয়েছিল প্রতারকরা। মহেশতলার গ্রিনফিল্ড সিটি আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে বসেই গোটা অপারেশন চালানো হতো। বলা হচ্ছিল, মাইক্রোসফটের হয়ে কাজ করছে তারা। শুধু মাইক্রোসফট নয়, প্রতারকরা দাবি করত, আমেরিকার একাধিক নামীদামি ব্যাঙ্কের প্রযুক্তির কাজ করে তারা। নিজেদের পরিচয় দিত টেকনিক্যাল সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে। এভাবেই মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়াচ্ছিল এই জাল। টিম ভিউয়ার, আলট্রা ভিউয়ার, এনি ডেস্কের মতো রিমোট অ্যাক্সেস সফটওয়্যার ইনস্টল করিয়ে নেওয়া হতো। সেই সূত্রে ভুক্তভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হতো। হাতানো অর্থ কখনও ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে সরানো হয়েছে, কখনও আবার অ্যাপল গিফট কার্ডে রূপান্তর করা হয়েছে। পরিচয় গোপন রাখতে উন্নত ভিপিএন ব্যবহার করত অভিযুক্তরা। প্রতারিত ব্যক্তিরা পরে মাইক্রোসফটে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, গোটা ব্যাপারটাই ভুয়ো।

গত নভেম্বর মাসে কলকাতার সাইবার থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সাইবার ক্রাইম শাখা। বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টে ৪০ থেকে মহেশতলার নামী আবাসন গ্রিন ফিল্ড সিটিতে মিনিট কুড়ির অপারেশন চালায় সাইবার ক্রাইম শাখার বিশেষ টিম। সেখানকার ব্লক-৪৬এর সেভেন বি-তে প্রতারকদের ডেরার হদিশ মেলে। সেখান থেকেই ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের নাম জুনেদ আলি, মহম্মদ খুরশিদ আখতার, শেখ আমিরুল্লা, শাদাব খান, মহম্মদ সাকির, জাকির খান, হুসেন আহমেদ খান, কুন্দন রায়। হুগলির বাসিন্দা জাকির ছাড়া প্রায় সকলেরই বয়স ৩০ বছরের মধ্যে।