Header AD

মৃত্যুদণ্ড হাসিনার, ফাঁসির সাজা আসাদ্দুজামানের! ‘ইউনুস সরকারের খুনি মানসিকতার প্রমাণ এই রায়’ প্রতিক্রিয়া মুজিবকন্যার

সোমবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করল সেদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর ট্রাইব্যুনাল  হাসিনাকে দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান দিয়েছে। শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। অপর অভিযুক্ত প্রাক্তন পুলিশকর্তা আল-মামুন। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রদর্শন করে তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার বাড়ির সামনে প্রচুর মানুষ জড় হয়েছেন। রীতিমতো ধুন্ধুমার শুরু হয়েছে ধানমুন্ডি জুড়ে। আওয়ামি লিগ আগেই জানিয়েছিল জামাত প্রভাবিত ‘ক্যাঙারু আদলতে’ বিচারের নামে প্রহসন চালিয়েছে। যেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই, তা কখনই ন্যায় বিচার হতে পারে না। রায়ঘোষণার পরে প্রায় একই সুরে হাসিনা বলেন, কারচুপির আদালত এই রায় দিয়েছে। জনমত না থাকা এক সরকারের নেতৃত্বে এই ট্রাইবুনাল কাজ করেছে। তাই এই ট্রাইবুনালের কোনও এক্তিয়ারই নেই। মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘খুনি’ মানসিকতার প্রমাণ এই ফাঁসির সাজা।

জুলাই অভ্যুত্থানে দেশছাড়া হওয়ার পর থেকে মহম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশে অসংখ্য মামলা হয়েছে হাসিনার বিরুদ্ধে। গুরুতর মামলাগুলির মধ্যে রয়েছে জুলাই বিপ্লবী ছাত্রদের উপর গুলি চালানো তথা মানবতাবিরোধী অপরাধ, আয়নাঘর সংক্রান্ত অভিযোগ ইত্যাদি। হাসিনাকে মূলত তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করল আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল। এক, উস্কানি দেওয়া। দুই, হত্যার নির্দেশ এবং তিন, দমনপীড়ন আটকানোর ক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা। বিচারপতি বলেন, ‘‘হাসিনা, আসাদুজ্জামান এখনও পলাতক। বার বার পরোয়ানা সত্ত্বেও তাঁরা আত্মসমর্পণ করেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। দু’জনেরই শাস্তি হওয়া দরকার। কোনও কোনও সাক্ষাৎকারে হাসিনা নির্দেশের দায় স্বীকারও করেছেন।’’ এর আগেই অবশ্য শেখ হাসিনার একটি অডিও বার্তা প্রকাশ্যে আসে। সেখানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, তিনি রায়ের পরোয়া করেন না। কারণ, ‘আল্লা জীবন দিয়েছেন, তিনিই নেবেন’। আগামী দিনে বাংলাদেশে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে তাঁর দল, এমনটাও মনে করেন হাসিনা। এরপরই সমর্থকদের উদ্দেশে হাসিনার বার্তা, “‘‘আমি বেঁচে আছি। বেঁচে থাকব। আবার মানুষের হিতার্থে কাজ করব। বাংলাদেশের মাটির প্রতি আমি সুবিচার করবই।’’   

রবিবার রাত থেকেই এই রায়দানকে কেন্দ্র করে আশান্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বিক্ষিপ্ত ভাবে অশান্তি শুরু হয় সেদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স, বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। হয়েছে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকার পুলিশ দুষ্কৃতীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে। রবিবার গভীর রাতে একাধিক বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে ঢাকায়। এখনও বিস্ফোরণের জেরে হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ঢাকা এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঢাকার তিতুমীর কলেজের মূল ফটকের সামনে এবং আমতলি মোড় এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইতিমধ্যেই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামি লিগ। তাদের তরফে নাশকতা ছড়ানো হবে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।