আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভস্মীভূত গুদামের বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, আর্তি ক্রমে বেড়েই চলেছে। এখনও অনেকেই প্রিয়জনদের খোঁজ পাননি। মঙ্গলবার পর্যন্ত মোমোর গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল। বুধবার সকালে সেই সংখ্যা আরও বাড়ল। নতুন করে আরও পাঁচটি পোড়া দেহাংশ পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। এদিন সন্ধ্যা নাগাদ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১।
এখনও নিখোঁজ বহু। পুলিশের কাছে নিখোঁজের ডায়েরি এদিন বেলা পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে ২৩টি। ভয়াবহ আগুনে মোমোর গোডাউন সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে পাশের ডেকরেটর্সের গুদামটিও। গোটা এলাকা এই মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপ! আগুনের তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, লোহার কাঠামো বহু জায়গাতেই কার্যত গলে গিয়েছে। পুড়ে যাওয়া কাঠামো ভাঙা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। ধ্বংসসূপের মধ্যে কেউ আটকে আছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতেও ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন জায়গায় পকেট ফায়ার দেখা গিয়েছে। দমকল কর্মীরা রবিবার রাত থেকে কাজ করে চলেছেন। দেহাংশগুলি ঝলসে পুড়ে যাওয়ায় কোনওভাবেই তাঁদের পরিচয় জানা সম্ভব হচ্ছে না। জানা যাচ্ছে দেহের ডিএনএ টেস্টের জন্য আদালতে আবেদন জানাবে পুলিশ। আদালতের নির্দেশ পেলে দেহাংশগুলির ডিএনএ টেস্ট হবে। গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে বিশাল সংখ্যায় পুলিশ।
পুলিশ ও দমকলের তরফ থেকেই অভিযোগ উঠেছে যে, নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার নাজিরাবাদে নামি ব্রান্ডের মোমোর গোডাউনটি বেআইনিভাবে চলছিল। ছিল না দমকলের ছাড়পত্র। কীভাবে এতদিন ধরে এত বড় একটা মোমোর গোডাউন চলছিল তা নিয়ে উঠেছ প্রশ্ন। প্রায় পাঁচ হাজার স্কোয়ার ফুট জায়গা জুড়ে এই গুদাম। এখানে মোমো তৈরির কাঁচা মাল মজুত করা হত। পাশাপাশি অনলাইন খাবার ডেলিভারির কোম্পানিগুলিও এখানে তাদের সামগ্রী মজুত রাখত। এখান থেকে ডেলিভারি হত বিভিন্ন স্টলগুলোতে। মোমো তৈরির কাজে ব্যবহার করা হত প্রচুর পরিমাণ পাম অয়েল। এই দাহ্য পাম অয়েল বেআইনিভাবে মজুত করে রাখার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে এদিন আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো গোডাউনে । এ ছাড়াও মূল গেটের সামনে ডাঁই করে সাজানো ছিল বিভিন্ন কোম্পানির ঠান্ডা পানীয়, এনার্জি ড্রিঙ্ক থেকে শুরু করে চাউমিনের প্যাকেট। কাঁচের বোতল থেকে শুরু করে নানা সামগ্রী। পাশের ডেকরেটর্সের গোডাউনে মজুত ছিল কাপড় সহ প্রচুর পরিমাণে সাজানোর জিনিস। বিশাল পরিমানে দাহ্য বস্তু মজুত থাকার কারণেই এত বড় অগ্নিকাণ্ড, এমনই মনে করছে দমকল থেকে পুলিশ সকলেই।





