দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে শেষমেশ যড়যন্ত্রের তত্ত্বেই সিলমোহর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। “দেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলি এর শেষ দেখে ছাড়বে। আমাদের তদন্ত সংস্থাগুলি এই ষড়যন্ত্রের শিকড় পর্যন্ত যাবে। যারা যারা এই ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী, তাদের সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে। একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না। এই দুঃসময়ে গোটা দেশ নিহতদের পরিজনদের সঙ্গে রয়েছে”, ভুটানের মঞ্চ থেকে মঙ্গলবার দেশবাসীর উদ্দেশে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে দিল্লিতে বোমা বিস্ফোরণের তদন্ত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে লালকেল্লা। পাশাপাশি লালকেল্লার নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন ও চাঁদনি চক মার্কেট বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রাজধানীকে। দিল্লি বিস্ফোরণের জেরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বসছে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায়। এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী।
পাশাপাশি, মোদীর বক্তৃতার ঠিক আগেই ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও একই সুরে জানিয়ে দিয়েছিলেন, দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়়িতদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিস্ফোরণের নেপথ্যে কী কারণ, তা নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্তের পরেই এ বিষয়ে আলোকপাত করা হবে। তবে পর পর দুই নেতার বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, আপাতত নাশকতার তত্ত্বেই সিলমোহর দিতে চাইছে নয়াদিল্লি। লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন। দিল্লির কোতোয়ালি থানা UAPA-এর ১৬, ১৮ ধারা, বিস্ফোরক আইন এবং বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বাসভবনে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইবি ডিরেক্টর, এনআইএ-র ডিজি, দিল্লির পুলিশ কমিশনার-সহ অন্যান্য আধিকারিকরাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একাধিক রাজ্যের সঙ্গে এই বিস্ফোরণের যোগ পাওয়া গিয়েছে, যার জেরেই এই পদক্ষেপ।
ভুটানের চতুর্থ রাজার ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মঙ্গলবার ভুটানে গিয়েছেন মোদী। এ ছাড়া, দু’দিনে আরও নানা কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরকালে ভুটানের বর্তমান রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, চতুর্থ রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুক এবং প্রধানমন্ত্রী টোবগের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মোদীর। ভুটানের রাজার সঙ্গে ভারত-ভুটান যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ১০২০ মেগাওয়াট পুনাতসাংচু-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধনও করবেন তিনি। দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে এই আলোচনাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। প্রতিবেশী দেশে গিয়েও ভারতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিকতম ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। সে দেশের রাজধানী থিম্পুর এক অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে মোদী বলেন, ‘‘আজ আমি খুব ভারাক্রান্ত মনে এখানে এসেছি। কাল সন্ধ্যায় দিল্লির ভয়াবহ ঘটনা আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে। কাল সারারাত ধরে আমি সমস্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যগুলি নিয়ে আলোচনা চলছিল।’’
প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার সামনে সিগন্যালে দাঁড়ানো একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত অন্তত ২০ জন। তার মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই গাড়ির মালিক মহম্মদ সলমনকে সোমবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে আরও চার জনকে। যদিও তাঁদের নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁরা বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের মূল পাণ্ডা ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের উমর মহম্মদ। সন্দেহভাজন এই ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মঙ্গলবার তার মা ও ভাইকে তলব করেছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিশদ তদন্তের জন্য উমরের পরিবারের সদস্যদের দিল্লিতে আনা হবে।





