উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে তুলকালাম। দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকা মঙ্গলবার রাতে এই অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার রাত ১টা নাগাদ দিল্লির ফৈজ-ই-ইলাহি ও তুর্কমান গেটের কাছে বুলডোজার চালিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (এসসিডি) কর্তারা। তাঁদের সঙ্গে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযোগ, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রশাসনের উপর চড়াও হয় স্থানীয় জনতা। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে তারা। ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫ জন পুলিশকর্মী। লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের সেল ছুড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তুর্কমান গেট অঞ্চলে প্রায় ৩৯ হাজার বর্গফুট জায়গা ‘অবৈধ দখল’-এর অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল । হাই কোর্টের নির্দেশে ওই এলাকায় জরিপের কাজ শুরু হয়। রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় আদালত। সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তিন মাসের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর করতে বলে আদালত। সেই মতোই মঙ্গলবার রাতে শুরু হয় দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অভিযান। ব্যারিকেড দিয়ে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। বুলডোজার অ্যাকশন শুরু হতেই সেখানে জড়ো হয় বিরাট ভিড়। অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে বাধা দেন তাঁরা। সে দাবি অগ্রাহ্য করে প্রশাসন ভাঙা শুরু করতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে জনতা। শুরু হয় পুলিশের উপর হামলা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথরের টুকরো ছোড়া হতে থাকে। এই গণ্ডগোলে অন্তত ৫ জন পুলিশকর্মী আহত হন। পালটা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
দিল্লি পুরসভার ডিসি বিবেক আগরওয়াল বলেন, “আদালতের নির্দেশে রাত ১টা নাগাদ অভিযান শুরু হয়। ৩২টি জেসিবি মোতায়েন করে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটলেও পুরসভার কোনও কর্মী আহত হননি। পুলিশ দুর্দান্ত কাজ করেছে এবং পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।” অন্যদিকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, “যে ২৫-৩০ জন পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিল সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাঁদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ ।”





