Header AD

প্রয়াত ধর্মেন্দ্র, শেষযাত্রায় প্রায় গোটা বলিউড! ভিলে পার্লে শ্মশানে  শেষকৃত্য, মুখাগ্নি করলেন পুত্র সানি

লড়াই শেষ। প্রয়াত ধর্মেন্দ্র। সোমবার সব লড়াই ব্যর্থ করে অনুরাগীদের ছেড়ে অমৃতলোকে পা দিলেন বলিউডের হিম্যান। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। আগামী মাসের ৮ তারিখ ৯০ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল অভিনেতার। জন্মদিনের আগে ঘন ঘন হাসপাতালে ভর্তি হতেই তাঁকে নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছিলেন পরিবার থেকে অনুরাগীরা। কয়েকদিন আগেও তাঁর মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি সেই সংক্রান্ত টুইটও করে দিয়েছিলেন রাজনাথ সিং এর মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পরে যদিও সেই টুইট মুছে দেন তিনি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন অভিনেতা। এবার আর শেষরক্ষা হল না। সোমবার নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। ‘ভিলে পার্লে’ শ্মশানে হল তাঁর অন্তেষ্ট্যিক্রিয়া। যদিও পরিবারের তরফেএখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে তাঁর মৃত্যুর খবরে সিলমোহর দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টুইট। শোকবার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘ভারতীয় সিনেমার এক যুগাবসান। তিনি ছিলেন একজন আইকনিক সিনেব্যক্তিত্ব, একজন অসাধারণ অভিনেতা যিনি প্রতিটি চরিত্রে সমানভাবে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে অসংখ্য মানুষের মন জয় করেছিলেন। এই কঠিন সময়ে ওঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধবদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।‘ ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু লিখেছেন, “ ভারতীয় সিনেমার অপূরণীয় ক্ষতি”। কিংবদন্তি অভিনেতার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শোকপ্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘কিংবদন্তি অভিনেতা-নায়ক ধর্মেন্দ্রজির প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। ধর্মেন্দ্রজির পরিবার, বন্ধুবান্ধব, ভক্তমহলের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। হেমা মালিনীজি ও পুত্রকন্যারা তাঁর সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার বহন করবেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।’ 

প্রায় ১৫ দিন ধরেই চলছিল টানাপড়েন। সোমবার দুপুরে ভিলে পার্লে শ্মশানে আচমকাই দেওল পরিবারের সদস্য এবং অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, সলমন খানদের উপস্থিতিতে বলিউডের হি-ম্যানের মৃত্যুশঙ্কা দানা বেঁধেছিল! বেলা গড়াতে সেটাই সত্যি হল। প্রযোজক-পরিচালক কর্ণ জোহর লেখেন, “একটা যুগের অবসান।” বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, ধর্মেন্দ্রর মুখাগ্নি করেছেন জ্যেষ্ঠপুত্র সানি দেওল। শেষযাত্রায় প্রবীণ অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন অভিষেক বচ্চন, করিনা কাপুর, অক্ষয়কুমার, আমির খান-সহ ইন্ডাস্ট্রির অনেকে। সোমবার ২৪ নভেম্বরই প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর অভিনীত শেষ ছবি ‘ইক্কিস’-ধর্মেন্দ্রর চরিত্রের প্রথম ঝলক। এ দিনই তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া। জন্মদিনের আগে এই খবর মেনে নিতে পারছেন না নায়কের অনুরাগীরা।

ধর্মেন্দ্রর সিনেমা কেরিয়ারকে এক নজরে দেখলে দু’টি বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমটি রোম্যান্টিক নায়ক। আর দ্বিতীয়টি অ্যাকশন ছবির রাগী, মারকুটে হিরো। সে দিক থেকে দেখলে ধর্মেন্দ্র এমনই একজন অভিনেতা, যিনি কালের দাবি মেনে নিজের ইমেজকে ভেঙেছেন-গড়েছেন। ‘শোলে’ অনেক অভিনেতার জীবনেরই মাইলফলক। এই ছবিতেই বদলায় প্রযুক্তি থেকে পটভূমি, বদলায় ‘নায়ক’ নামক ধ্যানধারণাও। বদলে যায় ছবির কাহিনি কাঠামোয় খলনায়কের উপস্থিতির চরিত্রও। ‘শোলে’-র সময় ধর্মেন্দ্র ৪০ ছুঁয়েছেন। ৩৫-এর অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁকে কাঁধে-কাঁধ দিয়ে অভিনয় করতে হয়েছিল। সেখানে পর্দার বেশির ভাগ আলো যেমন ‘গব্বর’-রূপী আমজাদ শুষে নিয়েছেন, ‘জয়’-রূপী অমিতাভ মহিমান্বিত হয়েছেন, ‘ঠাকুর’-বেশী সঞ্জীব কুমার নজর কেড়েছেন, ‘বীরু’ হিসেবে ধর্মেন্দ্র কি ততখানি আলো পেয়েছিলেন? এত দিন পরে মনে হতেই পারে, ‘শোলে’ যেখানে ছিল বাকিদের জন্য সূচনাবিন্দু, একা ধর্মেন্দ্রর জন্য এই ছবি নিয়ে আসে এমন এক দেওয়াল, যাকে তিনি পরবর্তী কালেও তেমন ভাবে অতিক্রম করতে পারেননি। দীর্ঘ কর্মজীবন। অগণিত ছবি। নিজের একটি বিবাহ থাকতেও হেমা মালিনীর মতো ‘স্বপ্নসুন্দরী’-র সঙ্গে ঘর বাঁধা। রাজনীতিতে আগমন, সাফল্য। আবার নীরব হয়ে যাওয়া…। ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে তেমন কোনও রসালো গুঞ্জনও ছিল না টিনসেল শহরে। গেঁহু-বাজরার ক্ষেতে বয়ে যাওয়া দেশ-গাঁওয়ের হাওয়ার মতোই উন্মুক্ত উপস্থিতি যেন তাঁর। আজ সবেতেই যবনিকা পতন হল।