Header AD
Trending

‘দিদি বাংলার মানুষের ভরসার ব্র্যান্ড’, ধরনা মঞ্চে বার্তা প্রতীক উরের, মমতা বললেন ‘ভালো বলেছ’

ধর্মতলার ধরনামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন সদ্য সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া নবাগত নেতা প্রতীক উর রহমান। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দিদি হচ্ছে একটা ব্র্যান্ড। যার ওপর বাংলার মানুষ চোখ বন্ধ করে ভরসা করে।” প্রতীক উরের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খুশি দলনেত্রী বললেন, “ভালো বলেছ”।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শাসকদলে যোগ দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। শনিবার ধর্মতলার ধরনামঞ্চে এটাই ছিল তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সমর্থনের সুর। বক্তব্য শেষে মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর প্রশংসা করে বলেন, “ভালো বলেছ, এবার জল খেয়ে নাও।”

শুক্রবার দুপুর থেকে ধর্মতলায় এসআইআর -এ নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতেও তিনি সেখানেই বিশ্রাম নেন। শনিবার সেই মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। একই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতীক উর রহমানও বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “প্রথমেই আমাদের নেত্রী, বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানাই।” পাশাপাশি মঞ্চে উপস্থিত না থাকলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রতীকের কথায়, এত বড় মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে তিনি অভিভূত এবং আনন্দিত।

এরপর তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। তাঁর অভিযোগ, “জ্ঞানেশ কুমারের অনেক জ্ঞান আছে, কিন্তু কাণ্ডজ্ঞান নেই। নির্বাচন কমিশনের কাজ মানুষের জন্য কাজ করা, কিন্তু সেই দায়বদ্ধতা তিনি পালন করছেন না।” প্রতীকের দাবি, মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করার চেষ্টা চলছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, “যতই চেষ্টা করুন, ভ্যানিশ কুমার তৃণমূলকে ভ্যানিশ করতে পারবেন না। বরং ২০২৬ সালের পর বাংলার মানুষই পদ্মফুলকে ভ্যানিশ করে দেবে।”

প্রতীক উর রহমানের বক্তব্যে দেশভাগের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, দেশভাগের সময় বহু ভারতীয় মুসলিম জিন্নার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, “এই দেশই আমাদের।” সেই ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, বাংলার মুসলিমরাও এই দেশকে নিজের দেশ বলেই মনে করেন। তাই নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য আলাদা করে কাগজ দেখানোর প্রয়োজন নেই বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।