Header AD

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে দর্শনার্থীর ঢল! ভিড় সামলাতে হিমশিম প্রশাসন

 নতুন বছরের প্রথম দিনেই পর্যটকদের ভরপুর ভিড় দিঘায়। সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির। একদিনেই এক লক্ষের বেশি দর্শনার্থী পুজো দিয়েছেন। এতদিন দিঘা মানেই ছিল সমুদ্রস্নান ও পর্যটন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠা জগন্নাথধাম সেই চেনা পরিচয়ের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শুধুমাত্র দিঘার সমুদ্রের ঢেউ নয়, বরং এবার পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির। সকাল থেকেই তাঁরা ভিড় জমিয়েছিলেন মন্দির চত্বরে। উপচে পড়া সেই ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে। বর্ষবিদায় উপলক্ষে মন্দিরে দিনভর ভজন, কীর্তন ও নৃত্য পরিবেশনের মতো একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বছরের শুরু দিনেও জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা-র বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল।

২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে বুধবার রাত থেকেই ওল্ড দিঘা ও নিউ দিঘার রাজপথ মায়াবী আলোর সাজে সেজে ওঠে। সুরের মূর্ছনায় মেতে ওঠেন হাজার হাজার পর্যটক, গভীর রাত পর্যন্ত রাজপথে চলে উৎসবের আমেজ। ঠিক রাত ১২ টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দিঘাজুড়ে শুরু হয় আতসবাজির ঝলকানি। উৎসবের সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা থেকে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার দর্শনের জন্য মন্দিরের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেল দর্শনার্থীরা। অনেকেই প্রথমে সমুদ্রতীরে ভিড় জমান বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখার জন্য। পরবর্তীতে তারা সূর্যপ্রণাম সেরেই পা বাড়ান জগন্নাথ মন্দিরের দিকে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে  ভিড় আরও বাড়তে থাকে মন্দির চত্বরে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বিকেল চারটে পর্যন্ত এক লক্ষ দর্শনার্থী জগন্নাথদেবের দর্শন করেছেন। এই মন্দির মাত্র আট মাসেই মানুষের কাছে খবুই জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে। ১৫০-র বেশি দেশ থেকে ভক্তরা এখানে ভগবান দর্শন করতে এসেছেন। এখনও ২৫ হাজারের বেশি বিদেশি পর্যটকরা এসেছেন। প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে চলায় খুশি হয়েছেন মন্দির পরিচালন কমিটির সদস্যরাও। অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শনার্থীর সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়েছে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মন্দিরের আয়ও। সমুদ্রের গর্জন আর ‘জয় জগন্নাথ মন্দির’ সবকিছু একসঙ্গে মিলেমিশে ২০২৬ সালের প্রথম দিনটি দিঘার ইতিহাসে এক অন্যতম নজির তৈরি করেছে। কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, “বছরের প্রথম দিন বিকেল পর্যন্ত এক লক্ষ দর্শনার্থী জগন্নাথদেবের দর্শন সেরেছেন। ভোর থেকেই মন্দিরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গত এক মাস ধরে দর্শনার্থীদের জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিফিন, মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজের জন্য অন্নপ্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।