বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। এবার থেকে আপামর বাঙালি বছরভর দুর্গাপুজোর রেশ পাবে। ৩৬৫ দিনই দেবীদুর্গার পুজো করা যাবে। নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস করে একথাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জানালেন, আগামী ২ বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই দুর্গা অঙ্গন (Durgangan) তৈরির কাজ শেষ হবে। সেই সঙ্গে গঙ্গাসাগর সেতু ও উত্তরবঙ্গের মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের দিনক্ষণও ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
পূর্ব পরিকল্পনা মতোই সোমবার বিকেলে দুর্গা অঙ্গনের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিউটাউন বাসস্ট্যান্ডের উলটোদিকে অ্যাকশন এরিয়া-১-এ প্রায় ১৭.২৮ একরেরও বেশি জমিতে গড়ে উঠতে চলেছে এই ‘দুর্গা অঙ্গন’। দিঘার জগন্নাথ মন্দির নির্মাণকারী হিডকোই এবার ‘দুর্গা অঙ্গন’ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে। আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২৬১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, আমি সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি। আমি বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার। জানেন এই দুর্গা অঙ্গন কেন তৈরি হচ্ছে? যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের বলি। ইউনেস্কো (UNESCO) আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোকে কালচারাল হেরিটেজের তকমা দিয়েছে। তাদের স্বীকৃতিকে সম্মান জানাতে, সংরক্ষিত করতেই এই দুর্গা অঙ্গন তৈরি করা হচ্ছে। সারাবছর এখানে মা দুর্গার নিত্যপুজো হবে।”

এর সঙ্গে মন্দির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানান, “আগে যে জায়গাটা পেয়েছিলাম সেটা ১২ একর ছিল। কিন্তু এখন যে জায়গায় দুর্গা অঙ্গন তৈরি হবে সেটা অনেক বড় জায়গা- ১৭.২৮ একরের বেশি। এখানে প্রতিদিন ১ লক্ষ দর্শনার্থী আসতে পারবে। ২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি হবে মন্দির। তার মাঝের উঠোনে একসঙ্গে অন্তত ১ হাজার মানুষ বসতে পারবেন। মন্দিরের চারপাশে ২০ ফিট চওড়া রাস্তা তৈরি হবে। মূল গর্ভগৃহ ৫৪ মিটার উঁচু হবে। মন্দিরে ১ হাজার ৮টি স্তম্ভ থাকবে। ১০৮টি দেবদেবীর মূর্তি থাকবে। ৬৪টি সিংহমূর্তি থাকবে। এছাড়াও সিংহদুয়ার থাকবে মন্দিরে। শিব, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশের পৃথক পৃথক মন্দির থাকবে। এর সঙ্গে মন্দিরে প্রসাদের ঘর , আলাদা সাংস্কৃতিক মিউজিয়াম থাকবে।”
মন্দিরকে কেন্দ্র করে ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বাড়বে সেকথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্দির হলে লোকাল পর্যটন, দোকানপাট, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সব থাকবে। এর ফলে মানুষের কর্মসংস্থান ও কর্মশ্রম দুই বাড়বে।
দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন “আগামী ৫ জানুয়ারি গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করব। ১৭০০ কোটি টাকা খরচ করে গঙ্গাসাগরে কংক্রিটের সেতু নির্মাণ হবে। আগামী দুবছরের মধ্যে এই সেতু তৈরি হবে। মানুষকে আর জল পেরিয়ে সাগরে যেতে হবে না।” পাশাপাশি আগামী জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের কথাও ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে বিরোধীদের কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। এস আই আর আবহে সাধারণ মানুষের হয়রানির কথা উল্লেখ করে তিনি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন, “জাগো মা, অসুরদের বিনাশ করো। মানুষকে বড্ড হয়রান হতে হচ্ছে।” এরপরই দৃপ্ত কন্ঠে তিনি ঘোষণা করেন “একদিন বাংলাই সারা পৃথিবীকে পথ দেখাবে। প্রত্যেকটা মানুষের অধিকার যেন রক্ষিত হয়, সে লড়াই চলছে, চলবে।”





